
দেশি ফলের মতোই এখন দেশে বাজারে স্ট্রবেরি সহজলভ্য। মূলত শীতপ্রধান দেশের ফল হলেও গত কয়েক বছরে দেশের উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ায় কৃষকেরাও চাষে ঝুঁকছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রবেরি অত্যন্ত পচনশীল। দুই-তিন দিনের বেশি তাজা রাখা যায় না। দেশের প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে না ওঠায় দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। কৃষিবিদ মো. মেহেদী মাসুদ জানিয়েছেন, ‘ফল স্বাদে চমৎকার, আইসক্রিম ও জুসে ব্যবহার করলে বিপুল বাজার তৈরি হবে। তবে কোল্ড চেইন না থাকায় বাজারজাত করা কিছুটা কঠিন।’
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি দেশি স্ট্রবেরি বিক্রি হচ্ছে ৬০০–৮০০ টাকায়। রাতের বেলায় দাম নেমে আসে ৪০০–৬০০ টাকায়। ভারতীয় স্ট্রবেরি বিক্রি হয় প্রায় ৩ হাজার টাকায়। কৃষকেরা প্রতি বিঘা জমিতে ১.৫–২ লাখ টাকা খরচ করে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন।
উৎপাদনের শীর্ষ এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, এরপর জয়পুরহাট, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী ও নওগাঁ। নভেম্বর-ডিসেম্বরে চারা রোপণ, ডিসেম্বরের শেষ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়।
স্ট্রবেরির আদিনিবাস ইতালি। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মনজুর হোসেনের হাত ধরে। তিনি রাবি-১, রাবি-২ ও রাবি-৩ জাত উদ্ভাবন করেছেন। বর্তমানে রাবি-২ জাত সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘ফ্রিডম-২৪’ নামে নতুন সুপার ভ্যারাইটি বাজারে আনা হয়েছে।
তবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরকারিভাবে সম্প্রসারণ না হওয়ায় কৃষকরা মূলত তাত্ক্ষণিক বাজারজাতকরণে নির্ভর করছেন।