ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মৌসুমি অভিযান নয়, বছরজুড়ে প্রস্তুতি চাই
- আপডেট সময় রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- ৫ বার দেখা হয়েছে

ডেঙ্গুকে আমরা এখনও অনেকটা মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে দেখি। বর্ষা এলে মশক নিধন অভিযান জোরদার হয়, হাসপাতালগুলোতে সতর্কতা বাড়ে, আর সংক্রমণ কমতে শুরু করলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মনোযোগও অন্যদিকে সরে যায়। কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন। ডেঙ্গু ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে; তাই এর মোকাবিলাও হতে হবে বছরজুড়ে, ধারাবাহিক ও তথ্যভিত্তিক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডে ১৯ সেপ্টেম্বর একদিনেই এক হাজারের বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দেখানো হয়েছে। এ ধরনের সংখ্যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কেবল জরুরি প্রতিক্রিয়া দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রোগী বাড়ার পর অভিযান শুরু করা মানে সমস্যার পেছনে ছোটা; প্রয়োজন হলো রোগী বাড়ার আগেই ঝুঁকির জায়গাগুলো শনাক্ত করা।
প্রথম কাজ হওয়া উচিত নগর ব্যবস্থাপনাকে মশা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করা। নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জমি, ছাদ, ড্রেন, প্লাস্টিক বর্জ্য, টায়ার ও ছোট ছোট জলাধার—এসবই এডিস মশার প্রজননের ক্ষেত্র হতে পারে। সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি, মানচিত্রভিত্তিক হটস্পট শনাক্তকরণ এবং দ্রুত প্রতিকার দরকার।
দ্বিতীয়ত, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে শুধু মশক নিধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। হাসপাতালের প্রস্তুতি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত শয্যা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স, সঠিক রেফারেল ব্যবস্থা এবং জনগণকে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য দেওয়াও একই পরিকল্পনার অংশ হতে হবে। একই সঙ্গে কোন এলাকায় কোন সময়ে সংক্রমণ বাড়ছে—এমন তথ্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও নগর কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত ভাগাভাগি করতে হবে।
তৃতীয়ত, নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই টেকসই হবে না। সপ্তাহে একদিন নিজের বাসা, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরীক্ষা করা খুব সাধারণ কাজ, কিন্তু লাখো পরিবার নিয়মিত করলে তার প্রভাব বড় হতে পারে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, বাজার, অফিস ও আবাসিক ভবনেও একই ধরনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা প্রটোকল থাকা উচিত।
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো স্মৃতিভ্রংশের মতো মৌসুমি আচরণ—সংকটের সময় আতঙ্ক, পরে বিস্মৃতি। এই চক্র ভাঙতে হবে। প্রয়োজন একটি জাতীয় বছরব্যাপী ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, যেখানে স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নগর পরিকল্পনা এবং নাগরিক সমাজ একই তথ্য ও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।
ডেঙ্গু আর কেবল কয়েক মাসের সমস্যা নয়। নীতিনির্ধারণেও সেই বাস্তবতা স্বীকার করার সময় এসেছে।






