
বাংলাদেশে হামের চলমান প্রাদুর্ভাব শুধু একটি সংক্রামক রোগের সংকট নয়; এটি নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থার ফাঁক কত দ্রুত জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে, তার কঠিন সতর্কবার্তা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে এবং নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজারের বেশি।
এ বছরের জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযানে বিপুলসংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। ইউনিসেফের মধ্যবর্ষীয় প্রতিবেদনে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তারপরও সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত থাকা দেখায় যে একটি বড় জরুরি অভিযান প্রয়োজনীয় হলেও একাই যথেষ্ট নয়। বহু বছর ধরে জমে থাকা রোগপ্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ করতে নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থাকে একই সঙ্গে শক্তিশালী করতে হবে।
প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত কোন শিশু প্রথম বা দ্বিতীয় হাম-রুবেলা ডোজ থেকে বাদ পড়েছে, তা স্থানীয় পর্যায়ে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা। শহরের বস্তি, ভাসমান পরিবার, প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং কর্মজীবী অভিভাবকদের সন্তানদের জন্য প্রচলিত কেন্দ্রভিত্তিক সময়সূচি সবসময় কার্যকর হয় না। মোবাইল দল, বাড়ি-বাড়ি অনুসন্ধান এবং সুবিধাজনক সময়ে টিকাদান—এসব উদ্যোগকে ব্যতিক্রম নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবস্থার অংশ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, হাসপাতালের প্রস্তুতি ও রোগ নজরদারি সমান গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত শিশুর দ্রুত শনাক্তকরণ, বিচ্ছিন্নকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং জেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সময়মতো তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত না হলে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র বুঝতে দেরি হয়।
তৃতীয়ত, টিকা নিয়ে ভুল তথ্য মোকাবিলায় কেবল প্রচারণা নয়, বিশ্বাসযোগ্য স্থানীয় যোগাযোগ দরকার। স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব এবং অভিভাবকদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগই দ্বিধা কমাতে বেশি কার্যকর হতে পারে।
হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তাই প্রতিটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জরুরি অভিযান শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। টিকাদানের ফাঁক কোথায় তৈরি হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কোন শিশুর কাছে সেবা পৌঁছাচ্ছে না—এই তিন প্রশ্নের উত্তর নিয়মিতভাবে খুঁজে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে bdnews24.com; UNICEF Bangladesh-এর ২০২৬ সালের হাম-রুবেলা টিকাদান ও মানবিক পরিস্থিতি প্রতিবেদন।