
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংবিধান সংস্কার, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন আদেশ এবং জাতীয় নির্বাচন–গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের প্রস্তাব উপস্থাপন করার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বিভিন্ন দলের বিরোধের প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রস্তাবকে অনেকেই ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণা, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং সংবিধান সংস্কারের চারটি মূল বিষয় এক প্রশ্নে গণভোটে পাঠানোর প্রক্রিয়াকে প্রধান উপদেষ্টা ‘সাশ্রয়ী ও যুক্তিসঙ্গত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এ দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা, উচ্চকক্ষ গঠন, মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ও ভিন্নমত উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ড. ইউনূসের ভাষণের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পৃথক বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে। তবে বিএনপির অংশ থেকে কিছু নেতার মত—সনদের কয়েকটি অংশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী হয়নি।
জামায়াতে ইসলামী বলেছে, একই দিনে নির্বাচন–গণভোট আয়োজন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে এবং ভোটারদের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আরও সময় প্রয়োজন। তবে উচ্চকক্ষ গঠনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) ব্যবস্থা গণভোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ইতিবাচক বলেছেন তারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংবিধান সংস্কারের মূল প্রস্তাবগুলো গণভোটে পাঠানো এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়াকে স্বাগত জানালেও তারা এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক চলছে বলে জানিয়েছে দলটি।
এবি পার্টি, খেলাফত মজলিস ও নাগরিক কোয়ালিশন প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে। তারা মনে করছে—সমঝোতার পথ খুলতে এবং নির্বাচনকে স্থিতিশীল করতে এই পদক্ষেপ সহায়ক হবে।
এদিকে, ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের পর রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিকভাবে শহর স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বহুদিনের জটিলতা নিরসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন দলগুলোর দায়িত্ব হবে বিভাজন এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গণভোটের বিষয়ে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করা।