ফার্মাসিস্টকে ওষুধ বিক্রেতা নয়, স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে দেখতে হবে

- আপডেট সময় শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- ৪৪ বার দেখা হয়েছে


আজ বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ফার্মাসিস্টদের আরও সক্ষম ও কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যুক্ত করার প্রয়োজনের কথাই মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশে ওষুধ পাওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও সঠিক ওষুধ সঠিকভাবে ব্যবহারের নিশ্চয়তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এই জায়গাতেই প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্টকে শুধু ওষুধ বিক্রেতা নয়, স্বাস্থ্যসেবার একটি দৃশ্যমান অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
রোগীর হাতে প্রেসক্রিপশন পৌঁছানোর পরও চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি থাকে—ওষুধ কীভাবে খেতে হবে, কোন ওষুধের সঙ্গে কোন ওষুধের সংঘাত হতে পারে, ডোজ ভুল হচ্ছে কি না, অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স ঠিকমতো শেষ করা হচ্ছে কি না, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কী করতে হবে—এসব বিষয়ে সঠিক পরামর্শ প্রয়োজন। অনেক দেশে এই দায়িত্বের বড় অংশ নেন ফার্মাসিস্টরা। আমাদের দেশে বাস্তবে এই ভূমিকা এখনো সীমিত।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ইতোমধ্যে মডেল ফার্মেসি ও মডেল মেডিসিন শপের জন্য নির্দেশিকা করেছে। এটি একটি ভালো ভিত্তি। কিন্তু শুধু সাইনবোর্ড বদলালেই হবে না; সেবার মান, প্রশিক্ষণ, পেশাগত জবাবদিহি এবং রোগীর পরামর্শ পাওয়ার অধিকার—সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। একটি মডেল ফার্মেসি তখনই অর্থবহ, যখন সেখানে একজন যোগ্য ব্যক্তি রোগীর ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকি বুঝতে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের কাছে ফেরত পাঠাতে পারেন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসকের ওপর চাপও কম নয়। প্রাথমিক ও বহির্বিভাগের সেবায় প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্টকে যুক্ত করা গেলে চিকিৎসকের কাজ কেড়ে নেওয়া হবে না; বরং ওষুধ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ সঠিক পেশাজীবীর হাতে যাবে। এতে রোগীও উপকৃত হবে, বিশেষ করে বয়স্ক, দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা এবং একাধিক ওষুধ ব্যবহার করা মানুষ।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার, একই ওষুধের একাধিক ব্র্যান্ড নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রেসক্রিপশন ছাড়া শক্তিশালী ওষুধ কেনা এবং ভুল ডোজ—এসব সমস্যা শুধু আইন দিয়ে সামাল দেওয়া কঠিন। কাউন্টারের ওপাশে দক্ষ ফার্মাসিস্ট থাকলে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষা ও পরামর্শও সম্ভব হয়। অর্থাৎ ফার্মাসিস্ট হতে পারেন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রথম সারির একটি বাস্তব অংশীদার।
এর জন্য তিনটি কাজ জরুরি। প্রথমত, হাসপাতাল ও বড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্টের পদ ও দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মডেল ফার্মেসির মানদণ্ড বাস্তবে মানা হচ্ছে কি না তা নিয়মিত তদারক করতে হবে। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে কখন এবং কী ধরনের ওষুধসংক্রান্ত পরামর্শ ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে নেওয়া উচিত।
বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস শুধু একটি পেশার স্বীকৃতির দিন নয়; এটি আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি অপূর্ণ জায়গা দেখার সুযোগ। বাংলাদেশে ওষুধের দোকান অনেক, কিন্তু পেশাদার ওষুধ-পরামর্শ এখনো বিরল। এই ব্যবধান কমানো গেলে নিরাপদ ওষুধ ব্যবহার, চিকিৎসার মান এবং রোগীর আস্থা—তিনটিই বাড়বে।






Leave a Reply