নিজেকে বিয়ে করেছিলেন, এক বছর পর ‘নিজেকেই ডিভোর্স’ দিলেন সুয়েলেন কেরি

- আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- ৬০ বার দেখা হয়েছে


নিজেকেই বিয়ে করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন লন্ডনপ্রবাসী ব্রাজিলিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার ও মডেল সুয়েলেন কেরি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে বিয়ের পোশাক পরে নিজের সঙ্গেই প্রতীকী ‘বিয়ে’র আয়োজন করেছিলেন তিনি। প্রায় এক বছর পর, ২০২৪ সালে সেই ‘সোলোগ্যামি’ বা নিজের সঙ্গে নিজের প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক শেষ করার ঘোষণা দেন কেরি। তবে এটি কোনো আইনগত বিয়ে বা আইনগত ডিভোর্স ছিল না; পুরো বিষয়টিই ছিল আত্মভালোবাসা ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকারকে ঘিরে প্রতীকী আয়োজন।
কেন নিজেকেই বিয়ে করেছিলেন
২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা ছবিতে কেরিকে লন্ডনের একটি গির্জায় ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাকে দেখা যায়। সে সময় তিনি জানান, নিজের মূল্য, মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ভাবনা থেকেই তিনি ‘সোলোগ্যামি’র পথে গিয়েছিলেন। নিজের সঙ্গে এই প্রতীকী অঙ্গীকারকে তিনি আত্মভালোবাসা ও আত্মসম্মানের উদ্যাপন হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
কেরির জন্ম ব্রাজিলে হলেও তিনি লন্ডনে বসবাস করেন। ২০২৪ সালে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসার সময় তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবনধারা, ফ্যাশন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে কনটেন্ট প্রকাশ করে পরিচিতি পেয়েছেন।
এক বছর পর কেন ‘ডিভোর্স’
প্রায় এক বছর পর কেরি জানান, নিজের সঙ্গে সম্পর্কটিকেও সব সময় নিখুঁত রাখার চাপ তাঁর জন্য ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছিল। E! News-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আত্মবিশ্লেষণ ও আত্মপর্যালোচনা জরুরি হলেও কোনো একটি চক্র কখন শেষ করতে হবে, সেটিও বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের প্রতি সব সময় নিখুঁত থাকার প্রত্যাশা তাঁকে কখনো কখনো মানসিকভাবে ক্লান্ত করেছে বলেও জানান তিনি।
কেরির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের ‘সোলোগ্যামি’ টিকিয়ে রাখতে থেরাপিরও আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং মোট ১০টি সেশন করেছিলেন। তবু একাকিত্ব ও নিজের প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ থেকে তিনি শেষ পর্যন্ত এই প্রতীকী সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন। তবে পুরো অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যর্থতা হিসেবে দেখেননি; বরং আত্মঅন্বেষণ ও ব্যক্তিগত বিকাশের একটি অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।
আইনগত বিয়ে নয়
‘সোলোগ্যামি’ শব্দটি সাধারণত নিজের সঙ্গে প্রতীকী বিয়ের আয়োজন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাজ্যে এমন অনুষ্ঠান আইনগত বিয়ে হিসেবে স্বীকৃত নয়। পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের সঙ্গে বিয়ের কোনো আইনগত অবস্থান না থাকায় এর জন্য আদালতে গিয়ে ডিভোর্স নেওয়ারও প্রশ্ন ওঠে না। তাই কেরির ‘ডিভোর্স’ ছিল মূলত তাঁর নিজের ঘোষিত প্রতীকী সম্পর্কের সমাপ্তি।
কেরি পরে জানান, ভবিষ্যতে তিনি নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনার জন্য নিজেকে উন্মুক্ত রাখতে চান। তাঁর এই ঘটনা আবারও ‘সোলোগ্যামি’, আত্মভালোবাসা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ধারণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: সুয়েলেন কেরির প্রকাশ্য ইনস্টাগ্রাম পোস্ট; E! News; Miami Herald; The Independent।






Leave a Reply