নোটিশ:
শিরোনামঃ
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে আর আড়ালে রাখা যাবে না রাজবাড়ীতে বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে বিরোধ, চার পরিবারের পথ বন্ধের অভিযোগ ইবির আইন অনুষদ থেকে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ জন আরও ১১ বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ, বিমানের পরিকল্পিত অর্ডার ২৫ প্লাস্টিকের বিকল্প হতে পারে বাংলাদেশের ‘সোনালি আঁশ’ পাট ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৮৭২ কিলোমিটারে বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা অপ্রতিম হত্যার বিচার ও ৪ দফা দাবিতে কুবিতে মৌন মিছিল অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা নিজেকে বিয়ে করেছিলেন, এক বছর পর ‘নিজেকেই ডিভোর্স’ দিলেন সুয়েলেন কেরি

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে আর আড়ালে রাখা যাবে না

সম্পাদকীয়
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ বার দেখা হয়েছে
একজন তরুণ শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলছেন

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত দুর্বলতা, পারিবারিক সমস্যা বা সাময়িক মনখারাপ হিসেবে দেখেছি। অথচ বাস্তবতা হলো—এটি এখন শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রতি দশজনেরও বেশি শিশুর মধ্যে অন্তত একজন কোনো না কোনো মানসিক সমস্যার সঙ্গে বসবাস করছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, যাদের সহায়তা দরকার তাদের বড় অংশই প্রয়োজনীয় সেবা পায় না।

স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, পারিবারিক প্রত্যাশা, আর্থিক সমস্যা, সম্পর্কের জটিলতা, অনলাইন হয়রানি ও সামাজিক তুলনার চাপ—সবকিছুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো এমন কোনো সহজ, নিরাপদ ও গোপনীয় সহায়তা-ব্যবস্থা নেই যেখানে একজন শিক্ষার্থী বিচার বা অপমানের ভয় ছাড়াই কথা বলতে পারে। ফলে সমস্যা যখন ছোট থাকে, তখন তা ধরা পড়ে না; পরে অনেক ক্ষেত্রে তা গভীর সংকটে রূপ নেয়।

বাংলাদেশে ইতোমধ্যে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার LIVE LIFE উদ্যোগের আওতায় কয়েকটি জেলায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও আবেগগত দক্ষতা বাড়ানো এবং বিপন্ন শিক্ষার্থীদের দ্রুত শনাক্ত করার কাজ চলছে। গত আগস্টে প্রকাশিত WHO-এর একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এমন প্রশিক্ষণ পাওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার সংকোচ কমছে। UNICEF-এর সহায়তায় স্কুলভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তাও জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বিচ্ছিন্ন প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকলে প্রয়োজনের তুলনায় এর প্রভাব খুব ছোটই থাকবে।

প্রথম কাজ হওয়া উচিত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি নির্ভরযোগ্য সহায়তা-পথ নিশ্চিত করা। সব স্কুলে পূর্ণকালীন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থাকা বাস্তবসম্মত নয়, কিন্তু প্রশিক্ষিত শিক্ষক, নির্দিষ্ট কাউন্সেলিং সময়, জেলা পর্যায়ের রেফারেল ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন হলে টেলি-কাউন্সেলিং—এই চারটি স্তর মিলিয়ে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশাদার কাউন্সেলর থাকা আরও জরুরি, কারণ সেখানে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পরিবার থেকে দূরে থাকে এবং সংকটের সময় তাৎক্ষণিক সহায়তার অভাব অনুভব করে।

দ্বিতীয়ত, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে শাস্তিমূলক বা কলঙ্কজনক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা বা অতিরিক্ত চাপের কথা বললে তাকে “দুর্বল”, “অমনোযোগী” বা “নাটক করছে” বলা সমস্যাকে আরও গভীর করে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ দরকার—কীভাবে বিপদের লক্ষণ চিনবেন, কীভাবে শুনবেন এবং কখন পেশাদার সহায়তার দিকে পাঠাবেন।

তৃতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ব্যবস্থাতেও শিক্ষার্থীর সুস্থতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু ফলাফল, উপস্থিতি বা শৃঙ্খলার সূচক দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য মাপা যথেষ্ট নয়। নিরাপদ পরিবেশ, বুলিং প্রতিরোধ, হয়রানি মোকাবিলা, সহপাঠী সহায়তা এবং কাউন্সেলিং সুবিধা—এসবও শিক্ষার মানের অংশ হওয়া উচিত।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা কোনো বিলাসিতা নয়। একজন শিক্ষার্থীকে সংকটের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর সাহায্য করার চেয়ে শুরুতেই তার কথা শোনা অনেক বেশি মানবিক, কার্যকর এবং কম ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন প্রয়োজন এমন একটি সংস্কৃতি, যেখানে ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর মানসিক সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT