জলাবদ্ধ এলাকায় কৃষিতে নতুন দিগন্ত: পলি নেট হাউসে বছরে ১০ লাখ পর্যন্ত মানসম্মত চারা উৎপাদন - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
বৃষ্টি উপেক্ষা করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ দর্শনার্থীদের ঢল সেমিকন্ডাক্টর খাতে সুখবর, আসছে বিশেষ প্রণোদনা দক্ষিণ কোরিয়ার নজরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, বড় বিনিয়োগ সম্ভাবনা জলাবদ্ধ এলাকায় কৃষিতে নতুন দিগন্ত: পলি নেট হাউসে বছরে ১০ লাখ পর্যন্ত মানসম্মত চারা উৎপাদন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, তফসিল ঘোষণা ইসির বায়তুল মোকাররমে জুমার আগে বয়ান দেবেন দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী ভারত ও পাকিস্তানের দুই ইসলামিক বক্তা আসছেন বাংলাদেশে, ঢাকা-চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক সেমিনার জীবিত থাকতেই নিজের ‘চল্লিশা’ করলেন বৃদ্ধ, খেলেন ২ হাজার মানুষ বালিয়াকান্দিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত একই জমিতে ধান, পাট, মাছ ও সবজি চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন রাজবাড়ীর কৃষক

জলাবদ্ধ এলাকায় কৃষিতে নতুন দিগন্ত: পলি নেট হাউসে বছরে ১০ লাখ পর্যন্ত মানসম্মত চারা উৎপাদন

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে
জলাবদ্ধ এলাকায় চারা উৎপাদন

বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতায় ভোগা খুলনা-যশোর অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে পলি নেট হাউস পদ্ধতি। আধুনিক এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন নিরাপদ পরিবেশে সারা বছর মানসম্মত সবজির চারা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা সহজে উন্নতমানের চারা পাচ্ছেন, অন্যদিকে কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন আয়ের সুযোগ।

কৃষি বিভাগ জানায়, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় সরকারি সহায়তায় ব্যক্তি উদ্যোগে ইতোমধ্যে তিনটি পলি নেট হাউস গড়ে উঠেছে। মোটা পলিথিনে তৈরি বিশেষ কাঠামোর ভেতরে লোহার নেট ব্যবহার করে বিভিন্ন জাতের সবজির বীজ বপন করা হয়। একটি পলি নেট হাউসে একসঙ্গে লক্ষাধিক চারা উৎপাদন করা সম্ভব এবং বছরে ৮ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত চারা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে। ফলে কৃষকরা অধিক স্বাস্থ্যবান ও মানসম্মত চারা পান, যা মাঠে ভালো ফলন নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।

ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা তাপস সরকার তার ‘রুদ্রনীল এগ্রি নার্সারি’র মাধ্যমে চুইঝাল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুন, টমেটো ও ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন সবজির উন্নতমানের চারা উৎপাদন করছেন। ২০১৭ সালে চারা উৎপাদন শুরু করলেও ২০২১ সালে সরকারি সহযোগিতায় পলি নেট হাউস স্থাপনের পর তার উৎপাদন ও বাজার আরও বিস্তৃত হয়েছে।

বর্তমানে ডুমুরিয়া, কেশবপুর, নড়াইলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা মৌসুমি চাহিদা অনুযায়ী তার নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করছেন। কৃষকদের দাবি, এখানকার চারা ব্যবহার করে তারা ভালো ফলন পাচ্ছেন এবং ক্ষতির ঝুঁকিও কমেছে।

‘পলিনেট হাউস’ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে সফল কৃষক

তাপস সরকার বলেন, সরকারি সহযোগিতায় পলি নেট হাউস স্থাপনের পর মানসম্মত চারা উৎপাদন অনেক সহজ হয়েছে। তার স্ত্রী বিজয়া সরকারও এ কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন। কৃষি বিভাগের আরও সহায়তা পেলে জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি চারা উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় পলি নেট হাউসের সংখ্যা বাড়ানো গেলে সময়মতো উন্নতমানের চারা নিশ্চিত হবে। এতে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT