আল জাজিরার প্রতিবেদন: ওসমান হাদির মৃত্যু কেন বাংলাদেশকে জ্বালিয়ে দিল - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
নির্বাচন ঘিরে রাজবাড়ীতে আনসার–ভিডিপির প্রস্তুতি সমাবেশ জাককানইবিতে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের নাম ও অনুষদ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ভোটে অংশ নিতে বিভাগীয় শহরে বাস দিচ্ছে কুবি প্রশাসন নিজেদের মধ্যে কথা বলছে এআই, পালন করছে তাদের গড়া ধর্ম “ক্রাস্টাফারিয়ানিজম” হজযাত্রীদের কোরবানির ও পরিবহন খরচ পরিশোধের শেষ সময়সীমা ৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩১ ভোট একটি পবিত্র আমানত: গণভোট ও ভোটাধিকার নিয়ে মুফতি আব্দুল মালেকের সতর্কবার্তা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান শুরু হয়েছে; ৪ লাখ ৯৫ হাজার ভোট এসেছে বেলস পালসি: হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া রোগ ও করণীয় জাককানইবিতে ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬’ উদ্‌যাপন

আল জাজিরার প্রতিবেদন: ওসমান হাদির মৃত্যু কেন বাংলাদেশকে জ্বালিয়ে দিল

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৪ বার দেখা হয়েছে

শরিফ ওসমান হাদি—একজন ছাত্রনেতা, আন্দোলনের মুখপাত্র ও উদীয়মান রাজনৈতিক চরিত্র। ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশ পরিণত হয় অগ্নিগর্ভ জনপদে। বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনায় প্রশ্ন উঠেছে—হাদির মৃত্যু কি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড, নাকি গভীর রাজনৈতিক বিস্ফোরণের অনিবার্য ফল?

গত ১২ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর একটি এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৯ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মৃত্যুর খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরে শুরু হয় সহিংস বিক্ষোভ। অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

কে ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি

শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানের সময় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি দ্রুতই তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও জনসভায় তার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট, আক্রমণাত্মক এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে তীব্র।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, হাদি নিজেকে কেবল আন্দোলনকারী নয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবেও প্রস্তুত করছিলেন। ঢাকা–৮ আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলেও ঘনিষ্ঠদের বরাতে জানায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটি।

🔥 মৃত্যুর পর কেন বিস্ফোরণ

হাদির মৃত্যু একা কোনো ঘটনা ছিল না—এটি যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্ষোভ, নিরাপত্তাহীনতা এবং বিচারহীনতার অনুভূতির সঙ্গে।

আল জাজিরা জানায়, বিক্ষোভকারীরা এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা’ হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ—

  • রাষ্ট্র ভিন্নমত দমন করছে

  • আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ

  • বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হয়েছে

এই ক্ষোভ থেকেই রাজধানীর শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

📰 মিডিয়া, কূটনীতি ও সহিংসতা

বিক্ষোভের সময় কয়েকটি গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে ঢাকায় ভারতের কূটনৈতিক স্থাপনাকে ঘিরে উত্তেজনাও তৈরি হয়। এর ফলে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

আল জাজিরা উল্লেখ করেছে, এই সহিংসতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

🏛️ সরকারের অবস্থান

অন্তর্বর্তী সরকার হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানায়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হবে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি—এই আশ্বাস অতীতেও বহুবার এসেছে, কিন্তু দৃশ্যমান বিচার হয়নি।

🧠 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: প্রতীক হয়ে ওঠা হাদি

বিশ্লেষকদের মতে, শরিফ ওসমান হাদি এখন কেবল একজন নিহত নেতা নন—তিনি পরিণত হয়েছেন একটি প্রতীকে।

একদিকে তিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন তরুণদের ক্ষোভ, অন্যদিকে তার মৃত্যু ব্যবহৃত হচ্ছে রাজনৈতিক শক্তি পুনর্গঠনের হাতিয়ার হিসেবে। ঠিক এখানেই পরিস্থিতি সবচেয়ে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

ওসমান হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বাঁকবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি দেখিয়ে দিয়েছে—একটি হত্যাকাণ্ড কীভাবে রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতিকে একসঙ্গে কাঁপিয়ে দিতে পারে।

এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি শান্ত হবে, নাকি আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেবে—সে উত্তর এখনো অজানা।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT