
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ১৩ নভেম্বরকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়’ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার আগের ও পরবর্তী তিন দিনকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর। এসব জেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ টহল জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে মাঠে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো গোষ্ঠী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির সুযোগ না নিতে পারে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের আংশিক প্রত্যাহারের প্রস্তাব থাকলেও নিরাপত্তা সংস্থার সুপারিশে তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তত নভেম্বর মাস পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন,
“দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় আমরা বাড়তি নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা রাখছি। কোথাও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন,
“গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যেন কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার সুযোগ না পায়।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সংবেদনশীল স্থান, আদালতপাড়া, কূটনৈতিক এলাকা ও সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে সাইবার ইউনিটগুলোকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।