নোটিশ:

হত্যা মামলায় আটক বেরোবি শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়

প্রতিবেদকের ছবি
মোঃ রবিউল ইসলাম, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি,বেরোবি
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫
  • ১৮৪ বার দেখা হয়েছে
received_723012383454838

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে সোচ্চার থাকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মো: মাহামুদুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন হাজিরহাট থানায় রুজু করা হত্যা মামলায় নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

এ ঘটনা জানাজানি হলে সোস্যাল মিডিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পুরো রংপুর নগরী জুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে। এ গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজ শুক্রবার (২০ জুন) সকাল ১১ টায় তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। একইদিন জুম্মার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন“ আমাদের মাহামুদুল স্যারকে অন্যায় ও হয়রানিমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলায় তার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্বেও তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এ গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অনতিবিলম্বে স্যারের মুক্তির দাবি করছি”।

আয়োজিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো নজরুল ইসলাম বলেন,“একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় মাহামুদুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যিনি জুলাই আন্দোলনে শিক্ষাথীদের পক্ষে সরব ছিলেন তাকে তদন্ত ছাড়াই আগাম বার্তা না দিয়ে গ্রেফতার করে সরাসরি কারাগারে প্রেরণ করা জুলাই বিপ্লবের সাথে অন্যায়। পুলিশ প্রশাসন যদি জুলাই আন্দোলনকে ধারণ না করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এভাবে গ্রেফতার করে তাহলে জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্খা কখনোই পূরণ হবে না। আমরা দ্রুত আমাদের সহকর্মীর মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট তৎকালীন পুলিশ, প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীর ১২নং ওয়ার্ডের রাধাকৃষ্ণপুর এলাকার মুদি দোকানি ছমেস উদ্দিনকে তার দোকানে এসে হুমকি দেন। এ সময় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছমেস উদ্দিনকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে পুলিশ ও আসামিরা তাকে রেখে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা ছমেস উদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী সমেস উদ্দিনের স্ত্রী আমেনা বেগমের বাড়িতে গেলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তার স্বামী সমেস উদ্দিনকে ধরতে গত ২ আগস্ট পুলিশ এলে তিনি দোকান থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারান। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। কেন হত্যা মামলা করলেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, প্রশাসন তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কাগজে সই করতে বলেছে, তিনি সই করেছেন। তিনি কারও নামে হত্যা মামলা করেননি বলে জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT