নোটিশ:
শিরোনামঃ
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আস্থা ফেরাতে চাই স্বচ্ছ সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে কঙ্গোয় ইবোলা সতর্কতায় সাড়া দিতে গিয়ে নার্স নিহত, স্বাস্থ্যকর্মী আহত: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ–জাপান শীর্ষ বৈঠক ২৭ অক্টোবর, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আলোচনায় কীটনাশক আমদানি ও ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ: কৃষিমন্ত্রী দুই মাস পর বাংলাদেশে নেপালের ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকার পর চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট জাপানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়ে ৩৪ কোটি ডলারের বেশি

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আস্থা ফেরাতে চাই স্বচ্ছ সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সম্পাদকীয়
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
Illustrative photograph of digital cybersecurity work; not the actual reported event

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়েছে। সতর্কতামূলক এই সিদ্ধান্ত জনসাধারণকে মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এখন আর শুধু আইটি বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি নাগরিক আস্থা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অংশ। তবে একটি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মানেই হামলা সফল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও টানা যায় না।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আস্থা রক্ষার প্রথম শর্ত হলো ঝুঁকির বিষয়ে পরিষ্কার, সময়োপযোগী এবং যাচাইযোগ্য যোগাযোগ। কোনো সেবা বন্ধ হলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে কী বন্ধ হয়েছে, গ্রাহকের কোন কার্যক্রম সচল রয়েছে এবং কখন পরবর্তী হালনাগাদ দেওয়া হবে। অনিশ্চয়তার সময়ে তথ্যের শূন্যস্থান গুজব দিয়ে পূরণ হয়।

দ্বিতীয় শর্ত, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা। ওয়েবসাইট, অ্যাপ, পেমেন্ট গেটওয়ে ও তৃতীয় পক্ষের সেবার দুর্বলতা নিরীক্ষার জন্য লিখিত সময়সূচি প্রয়োজন। নিরাপত্তা প্যাচ কত দ্রুত বসানো হচ্ছে, কোন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের বিকল্প ব্যবস্থা আছে এবং কোনো ঘটনা ঘটলে কে দায়িত্ব নেবে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই সুস্পষ্ট থাকতে হবে।

তৃতীয়ত, সাইবার নিরাপত্তা কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বড় বাণিজ্যিক ব্যাংকের দায়িত্ব নয়। ছোট আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সেবাদাতা এবং গ্রাহকসেবার কর্মীদের জন্যও নিয়মিত প্রশিক্ষণ দরকার। ফিশিং, ভুয়া পরিচয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অ্যাকাউন্ট দখলের মতো ঝুঁকি প্রযুক্তিগত প্রতিরক্ষার পাশাপাশি মানবিক সচেতনতারও পরীক্ষা নেয়।

চতুর্থত, ঝুঁকি মোকাবিলার পরিকল্পনা বাস্তবে মহড়া দিয়ে যাচাই করতে হবে। বিকল্প সার্ভার, নিরাপদ ব্যাকআপ, ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা কাগজে থাকলেই যথেষ্ট নয়। একটি সমস্যা সমাধানের পর স্বাধীন মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংশোধন ভবিষ্যৎ ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

সবশেষে প্রয়োজন জবাবদিহি ও ভারসাম্য। অকারণে আতঙ্ক তৈরি করা যেমন অনুচিত, তেমনি গ্রাহকের যৌক্তিক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে দীর্ঘদিন সেবা বন্ধ রাখার বদলে সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি অনুযায়ী সীমিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণই উত্তম।

বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার পরিসর বাড়ছে। এর সঙ্গে নিরাপত্তা, সেবার ধারাবাহিকতা এবং জনসমক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়ার মানও বাড়াতে হবে। একটি প্রযুক্তিগত সতর্কতা তখনই দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনে, যখন তা স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতির সূচনা করে।

প্রতীকী ছবি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT