নোটিশ:
শিরোনামঃ
শনিবার মহালয়া, দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিতে মন্দিরগুলো ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই ভারতের স্থলবন্দর বিধিনিষেধ ও পাটপণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ বুটেক্স ডাই-কেম এক্সপোতে শিক্ষার্থী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ বাংলাদেশি স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানে সহায়তার আশ্বাস বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে সচেতনতা ও সহমর্মিতা বাড়ানোর আহ্বান শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের সরকারি অর্থের সুরক্ষায় ঝুঁকিভিত্তিক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা জোরদারের উদ্যোগ কুবি উপ-উপাচার্যের বাবার মৃত্যুতে ইউট্যাবের শোক জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালুর উদ্যোগ ইউজিসির

ডেঙ্গু মোকাবিলায় জরুরি সমন্বিত জনস্বাস্থ্য অভিযান

সম্পাদকীয়
  • আপডেট সময় রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য অভিযানের প্রতীকী ছবি

ডেঙ্গুতে এক দিনে ছয়জনের মৃত্যু এবং ১,৬০৮ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য শুধু একটি দৈনিক পরিসংখ্যান নয়; এটি আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য তীব্র সতর্কসংকেত। চলতি বছরে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে মৌসুমি আতঙ্কের পুরোনো পদ্ধতিতে আর চলবে না। ডেঙ্গুকে বার্ষিক দুর্যোগ হিসেবে মেনে নেওয়ার বদলে সারাবছরের নগর ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

প্রথম কাজ হওয়া উচিত মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে ওয়ার্ডভিত্তিক নিয়মিত অভিযান। ফগিং দৃশ্যমান বলে জনপ্রিয়, কিন্তু লার্ভার উৎস বন্ধ না হলে এর ফল সাময়িক। নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, গ্যারেজ, স্কুল, বাজার, হাসপাতাল, সরকারি স্থাপনা এবং বাসাবাড়ির ছোট পাত্র—সবখানে জমে থাকা পানি নির্দিষ্ট সময়সূচিতে পরীক্ষা করতে হবে। কোন ওয়ার্ডে কত প্রজননস্থল পাওয়া গেল, কতটি সরানো হলো এবং পরের সপ্তাহে পরিস্থিতি কী—এসব তথ্য প্রকাশ করলে জবাবদিহি বাড়বে।

দ্বিতীয়ত, রোগীর চাপ বাড়লে হাসপাতালের প্রস্তুতি আগে থেকেই থাকতে হবে। ডেঙ্গু রোগীর সঠিক ট্রায়াজ, পর্যাপ্ত পরীক্ষা, তরল ব্যবস্থাপনা, রক্তের উপাদান, প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মী এবং গুরুতর রোগী দ্রুত রেফারের ব্যবস্থা না থাকলে মৃত্যু বাড়ে। বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালের তথ্যও একই নজরদারি কাঠামোয় আসা প্রয়োজন, যাতে কোন এলাকায় রোগী দ্রুত বাড়ছে তা বুঝে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

তৃতীয়ত, নাগরিকের দায়িত্বকে কেবল প্রচারপত্রে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সপ্তাহে এক দিন দশ মিনিট বাড়ি ও কর্মস্থলের জমে থাকা পানি পরীক্ষা করা, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখা বাস্তব কাজ। তবে রাষ্ট্রীয় সংস্থার দায়িত্ব নাগরিকের ওপর ঠেলে দেওয়া যাবে না; ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নির্মাণবিধি এবং নিয়মিত মশা নজরদারি নিশ্চিত করা স্থানীয় সরকারের কাজ।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফলতা মাপতে হবে রোগীর সংখ্যা কমছে কি না, উচ্চঝুঁকির এলাকা দ্রুত শনাক্ত হচ্ছে কি না এবং চিকিৎসা পেতে বিলম্ব কমছে কি না—এই ফলাফলে। জরুরি মুহূর্তে কয়েক দিনের অভিযান নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক ও ধারাবাহিক ব্যবস্থাই জীবন বাঁচাতে পারে।

সম্পাদকীয় তথ্যভিত্তি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাসসের সর্বশেষ ডেঙ্গু পরিস্থিতি। ফিচারড ছবি: প্রতীকী; Unsplash/Shubhendu Mohanty.

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT