সড়কে মৃত্যু কমাতে অভিযান নয়, স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাই

- আপডেট সময় শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
- ১০ বার দেখা হয়েছে


বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রায় প্রতিবারই একই প্রশ্ন ফিরে আসে—আর কত প্রাণ গেলে আমরা সড়ক নিরাপত্তাকে জরুরি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে নেব? দুর্ঘটনার পর শোক, তদন্ত কমিটি ও কয়েক দিনের তৎপরতা দেখা যায়; কিন্তু নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে যে ধারাবাহিক প্রয়োগ দরকার, সেটিই সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত।
সড়ক নিরাপত্তা কেবল চালকের দক্ষতার প্রশ্ন নয়। রাস্তার নকশা, যানবাহনের ফিটনেস, গতিসীমা প্রয়োগ, পথচারীর নিরাপদ চলাচল, গণপরিবহনের শৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা—সবকিছু মিলিয়েই একটি নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি হয়। এর যেকোনো একটি দুর্বল হলে মানুষ তার মূল্য দেয় জীবন দিয়ে।
বিশেষ করে মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অযোগ্য চালক, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন—এসব পরিচিত সমস্যা। এগুলো নতুন করে চিহ্নিত করার দরকার নেই; দরকার নিয়মিত ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ। আইন যদি শুধু বিশেষ অভিযানের সময় কার্যকর হয়, তাহলে তার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয় না।
একই সঙ্গে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সড়ক নির্মাণের পর নিয়মিত চিহ্ন, আলো, ডিভাইডার, বাঁক, ফুটপাত ও ক্রসিং পরীক্ষা না করলে ভালো রাস্তা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানের তথ্য প্রকাশ ও দ্রুত সংশোধনের একটি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা থাকা উচিত।
সড়ক দুর্ঘটনার তদন্তও এমন হতে হবে যাতে প্রতিটি বড় দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়। কে দায়ী—এই প্রশ্নের পাশাপাশি কেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হলো, সেটিও জানতে হবে। সেই শিক্ষা যদি নীতি ও অবকাঠামোয় ফিরে না আসে, তাহলে একই ভুল বারবার ঘটবে।
নিরাপদ সড়ক কোনো বিলাসিতা নয়; এটি নাগরিকের মৌলিক নিরাপত্তার অংশ। দুর্ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া নয়, দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি কমানো—এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।






Leave a Reply