
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় বরাদ্দের একটি অংশ অব্যয়িত থাকায় তা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল ইউনিয়নের সাধুখালী এলাকায় ৩ কিলোমিটার এবং জামালপুর ইউনিয়নের খামার মাগুরা থেকে মাশালিয়া খাল পর্যন্ত আরও ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আওতায় মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ১৪ মে কাজ শুরু হয়ে ২২ জুন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
প্রকল্প শেষে জঙ্গল ইউনিয়নের খাল পুনঃখননে অব্যয়িত ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪০ টাকা এবং জামালপুর ইউনিয়নের খাল পুনঃখননে অব্যয়িত ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৮১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। দুই প্রকল্প মিলিয়ে মোট ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা ফেরত যায়।
দুই প্রকল্পে ২৯৭ জন উপকারভোগী ছিলেন। এছাড়া খালের দুই পাড়ে ৩ হাজার ৪০০টি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃখননের ফলে খাল দুটির পানি ধারণক্ষমতা ও নাব্যতা বেড়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল কুমার ও আরব আলী বলেন, আগে বর্ষাকালে খালে পানি জমে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। পুনঃখননের ফলে পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে তারা আশা করছেন। এতে ধান, পাট, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ সহজ হবে এবং বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে।

জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কল্লোল কুমার বসু বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করেছে। সংযোগ খালগুলোও পুনঃখনন করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান বলেন, জঙ্গল ও জামালপুর ইউনিয়নের খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে উপজেলার আরও কয়েকটি খাল পুনঃখননের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদনে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল মিলতে পারে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কাজের গুণগত মান বজায় রেখেই সরকারি অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অব্যয়িত ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ প্রকল্পের সুফল পাবেন স্থানীয় কৃষকরা।