
আসন্ন গণভোটে ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। সম্প্রতি এক খুতবায় তিনি বলেন, ভোট একটি পবিত্র ‘আমানত’ এবং ‘হ্যাঁ’–‘না’—উভয় ভোট দেওয়ার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে; কোনো পক্ষ বেছে নিতে ভোটারদের বাধ্য করা উচিত নয়।
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক আসন্ন গণভোট ও নাগরিকের ভোটাধিকারের গুরুত্ব নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সজাগ, সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি গণভোটে থাকা ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—এই দুটি বিকল্পের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, যেহেতু গণভোটে দুটি অপশন রাখা হয়েছে, তাই জনগণের ‘না’ ভোট দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহিত করলেও ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। তিনি বলেন, ভোটারদের কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য মনে করা ঠিক নয়।
গণভোটের কাঠামো নিয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, পাঁচ-ছয়টি ভিন্ন বিষয়কে একত্র করে একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা ভোটারদের জন্য সমস্যাজনক। এতে একজন ভোটার কোনো একটি বিষয়ের সঙ্গে একমত হলেও অন্য বিষয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে আলাদাভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন না। ‘হ্যাঁ’ বললে সব বিষয়ে সম্মতি এবং ‘না’ বললে সব বিষয়ে অসম্মতি জানাতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ এক ধরনের পেরেশানিতে পড়েছে। কারণ, একজন নাগরিক হয়তো কয়েকটি বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, কিন্তু সব বিষয়ে একমত নাও হতে পারেন। অথচ বিদ্যমান পদ্ধতিতে একটি উত্তরের মাধ্যমেই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভোটকে একটি পবিত্র আমানত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভয়, লোভ বা প্ররোচনার বশে ভোট দেওয়া উচিত নয়। বরং আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে, বিজ্ঞ ও নেককার ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং বিবেকের আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল দলের নাম, মনোগ্রাম বা আকর্ষণীয় স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান জাতীয় মসজিদের খতিব। তিনি বলেন, অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও তাদের ইশতেহার ও কর্মকাণ্ড কতটা ইসলামসম্মত, তা যাচাই করা জরুরি। তার ভাষায়, “শুধু ইসলামের নাম আছে বলেই চোখ বন্ধ করে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ইসলামের নাম ব্যবহারকারী দলগুলোর নীতি ও কর্মসূচি সেক্যুলার দলগুলোর মতো হয়ে থাকে। তাই কোনো দলের আদর্শ, লক্ষ্য এবং তারা প্রকৃত অর্থে ইসলাম বাস্তবায়নে সক্ষম কি না—তা গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নাগরিকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, ভোট দেওয়ার আগে চিন্তাভাবনা করা, অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং আল্লাহর কাছে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য দোয়া করা উচিত। তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে এমন নেতৃত্ব কামনা করেন, যাদের অন্তরে আল্লাহভীতি রয়েছে, যারা পরকালের জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী এবং সৃষ্টির প্রতি দয়া-মায়া রাখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রার্থনা করেন, যাদের অন্তরে খোদাভীতি ও জনগণের প্রতি মমতা নেই, তাদের হাতে যেন ক্ষমতা না যায়।
খুতবায় তার মূল বার্তা ছিল—ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করা, প্রলোভন বা চাপে না পড়া এবং বাহ্যিক প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তির তাকওয়া ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া।
পরিশেষে তিনি বলেন, দেশের উন্নতি কেবল ভোটের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং শাসকদের নিয়ত এবং জনগণের কিসমতের সঙ্গেও তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কোনো প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে বিবেক দিয়ে আমানত রক্ষা করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।