
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) সম্প্রতি সংঘটিত দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার এবং দুইজনকে ১০ হাজার টাকা ও চারজনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা বোর্ডের ১৬তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৪ নভেম্বর বুটেক্স স্পোর্টস ক্লাব আয়োজিত আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের মধ্যকার খেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ চলাকালীন ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের এক খেলোয়াড়কে মারধরের অভিযোগে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫ শিক্ষার্থী এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন—ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের মো. সাইফুল ইসলাম, বর্ষণ বনিক, মো. আল হাজ হোসেন; ৪৯তম ব্যাচের আসির সাদিক, আল-ফাহিম এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. মুশফিকুর রহমান।
এ ঘটনার পরের দিন ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের সামনে ৪৯তম ব্যাচের এপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অভিষেকের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হন এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আল মাহমুদ বিন কবির নির্ঝর, টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের সাইদুর রহমান এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আব্দুল কাদের মৃদুল।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সার্বিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে ‘বুটেক্স শৃঙ্খলা বোর্ড প্রবিধান ২০১৫’-এর ধারা ৩(ঘ) অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হয়। প্রথম দিনের ঘটনায় মো. সাইফুল ইসলাম ও আসির সাদিককে সাময়িক বহিষ্কার এবং বর্ষণ বনিক, আল-ফাহিম, আল হাজ হোসেন ও মুশফিকুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের ঘটনায় আল মাহমুদ বিন কবির নির্ঝরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে; আর সাইদুর রহমান ও আব্দুল কাদের মৃদুলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে।
সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। তারা ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন কিছু শিক্ষার্থী। আবার অনেকেই দ্রুত শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি ঘটনার সময় সেখানে ছিলাম না। আমাকে শুধু বলা হচ্ছে, স্যার আমাকে দৌড়ে আসতে দেখেছেন। এতেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমি প্রমাণ করতে পারব আমি কাউকে মারিনি। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে আমি খেলোয়াড় রাফিদকে ঘুষি মেরেছি।” তিনি দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দাবি জানান।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, “আমিই ভুক্তভোগী, আমাকে মারা হয়েছে; তবু আমাকেই জরিমানা করা হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ এলে আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেব। কোনো অন্যায় আমি স্বীকার করব না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। যাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের শোকজ করা হবে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজন হলে আরেকটি কমিটি গঠন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
শাস্তির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমাবে।