ভাইরাল হওয়ার পর হুমকিতে মিজানের ‘ফুটপাতের বুফে’ - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
বাংলাদেশের শপথ অনুষ্ঠানে মোদি আসছেন না, দিল্লি পাঠাচ্ছে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথমবার এমপিদের এবং মন্ত্রিসভার শপথ হজ সহজ করতে মক্কায় নিজস্ব ‘হজ ভিলেজ’ গড়ছে ইন্দোনেশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনের পর্যবেক্ষণে: বাংলাদেশ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বাবর, পিন্টু ও আজহার সংসদে – বিপুল ভোটে জয় ফরিদপুরের সালথায় বাজার নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, আহত ২০ নির্বাসন থেকে নেতৃত্বে: তারেক রহমানের রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা নাটোরের বড়াইগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ছয়জন আহত, বাড়ি ভাঙচুর আর্কটিকে বড় আবিষ্কার – সাইবেরিয়ার ইয়ামালে ৫.৫ কোটি টন তেলের খনি পেল রাশিয়া বিবিসি বিশ্লেষণ: তারেক রহমানকে অভিনন্দনে নরেন্দ্র মোদীর ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইউ-টার্ন’

ভাইরাল হওয়ার পর হুমকিতে মিজানের ‘ফুটপাতের বুফে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪২৫ বার দেখা হয়েছে

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে আলোচনায় আসা ঢাকার আগারগাঁওয়ের ফুটপাথের জনপ্রিয় খাবারের দোকান ‘ফুটপাতের বুফে’ এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে। বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে, ইউটিউবারদের ভিড়ে রান্নার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে, আর স্থানীয় প্রশাসনের উচ্ছেদ চেষ্টায় মানবিক এই উদ্যোগ হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রায় এক বছর আগে মাত্র তিন কেজি চাল দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন মিজানুর রহমান। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন ৩৬ থেকে ৪১ কেজি চাল ব্যবহার করে প্রায় ৪০০ মানুষকে খাবার সরবরাহ করেন। কর্মী না থাকায় নিজেই রান্না, পরিবেশন ও দোকান সামলান তিনি। গ্রাহকরা নিজেদের মতো খাবার নিয়ে খেয়ে প্লাস্টিকের ডিব্বায় টাকা রেখে যান—কেউ পুরো টাকা দেন, কেউ দেন না, তবুও চলছিল দোকান।

তবে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে যায়। আগে যেখানে দিনে ১২০০ টাকার বেশি বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে ৫০০–৬০০ টাকায়। মিজানের অভিযোগ, একদল ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সারাদিন ভিডিও করতে এসে রান্নার সময় নষ্ট করছেন, ফলে খাবার ঠিকমতো প্রস্তুত করা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। মিজানের দাবি, এটি একজন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তার নির্দেশে হয়েছে, যিনি বলেছেন—এই স্থানে কোনো ‘হোটেল’ থাকতে পারবে না। মিজান মনে করেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য তার এই রাস্তার পাশের দোকানটি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, যা হয়তো কিছু সরকারি কর্মকর্তার চোখে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে জায়গাটা আগে প্রকাশ্যে প্রস্রাব-মলত্যাগের জন্য ব্যবহৃত হতো, তখন কেউ কিছু বলেনি। এখন কেন আমার দোকান লক্ষ্যবস্তু? ফুটপাত উচ্ছেদের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের, তাহলে পুলিশ কেন পাঠানো হলো?”

মাগরিবের আগেই দোকান গুটিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় মিজানকে। ব্যবসা মন্দায় থাকায় স্ত্রীও অসন্তুষ্ট। তবে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “দোকান ভেঙে দিলেও আমি অন্তত ৩০০ মানুষকে রাস্তা থেকে খাবার দিয়ে যাব।” একইসাথে তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন—“দয়া করে আমার হোটেলটি নষ্ট করবেন না।”

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT