ঢাকায় মনোনিত জাতিসংঘ দূত একজন সমকামী, আনতে চান তার সঙ্গীকে! - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সড়ক সংস্কারের দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ ভোলা বরিশাল সেতুর দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু শেষ হলো কুবির পঞ্চম ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত

ঢাকায় মনোনিত জাতিসংঘ দূত একজন সমকামী, আনতে চান তার সঙ্গীকে!

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১১ বার দেখা হয়েছে
সমকামী জাতিসংঘ দূত আসতে চান বাংলাদেশে, ছবি: জাতিসংঘ
সমকামী জাতিসংঘ দূত আসতে চান বাংলাদেশে, ছবি: জাতিসংঘ

বাংলাদেশে জাতিসংঘের পরবর্তী দূত হিসেবে একজন সমকামী পুরুষের মনোনয়ন নিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বর্তমানে পাপুয়া নিউগিনিতে কর্মরত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রিচার্ড এস হাওয়ার্ডকে বাংলাদেশের নতুন দূত হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বাংলাদেশকে এ নিয়োগের বিষয়ে জানিয়ে ‘এগ্রিমো’ (কূটনৈতিক অনুমোদন) চাওয়া হয়েছে। তবে, রিচার্ড হাওয়ার্ড তার সমকামী পার্টনারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসতে চান বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে।

একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে জাতিসংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের একজন সমকামী কূটনীতিককে দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন যে, একজন সমকামীকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তের আগে এখানকার সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।

বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি গভীরভাবে ইসলামি মূল্যবোধ দ্বারা প্রভাবিত। ইসলাম সমকামিতাকে সমর্থন করে না এবং এটি বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনেও একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রেক্ষাপটে, একজন সমকামী কূটনীতিককে, যিনি তার সমকামী পার্টনারকে নিয়ে আসবেন বলে জানা যাচ্ছে, তা দেশের আপামর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সাধারণ মানুষ ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে এই নিয়োগকে সাংঘর্ষিক মনে করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. এম শহিদুজ্জামান এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “জাতিসংঘ কিভাবে এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয় তা আমার বোধগম্য নয়। জাতিসংঘের উচিত এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করা। জাতিসংঘ এটা না করলে বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে রিচার্ড হাওয়ার্ডের এগ্রিমো প্রত্যাখ্যান করা।” তিনি মনে করেন, রিচার্ড হাওয়ার্ড বাংলাদেশে জাতিসংঘের দূত হিসেবে এলে তিনি ‘এলজিবিটি’ (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার) অধিকার প্রচারের চেষ্টা করবেন, যা বাংলাদেশের জন্য “অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু”। এই নিয়োগ নিশ্চিতভাবে দেশে অস্থিরতা তৈরি করবে এবং সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। অধ্যাপক শহিদুজ্জামান শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “একবার ভেবে দেখুন এটাকে ইস্যু করে যদি ইসলামি দলগুলো রাস্তায় নামে তাহলে কি পরিস্থিতি তৈরি হবে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র কূটনীতিক ‘আমার দেশ’কে জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এটি নিয়ে অবশ্যই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রিচার্ড হাওয়ার্ডের এগ্রিমো অনুমোদন করা হবে কিনা সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ওই কূটনীতিক আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা বহুমাত্রিক। শান্তিরক্ষী মিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সঙ্গে সহযোগিতা করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে জাতিসংঘের ভূমিকা রয়েছে। তাই বিতর্কিত কোনো কিছু সামনে আসা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘের অবশ্যই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

ওই কূটনীতিক মনে করেন, এই বিতর্কিত নিয়োগ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কারণ সরকার একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং এই সময়ে সমকামিতার মতো একটি স্পর্শকাতর ইস্যু নিশ্চিতভাবেই নতুন অস্থিরতা তৈরি করবে, যা মোটেই কাম্য নয়। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে ভালো হয় যদি জাতিসংঘ ঢাকায় নতুন কোনো দূত না পাঠিয়ে বর্তমানে ঢাকায় বর্তমানে কর্মরত দূত গোয়েন লুইসকে আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত রেখে দেয়। গোয়েন লুইস ইতিবাচকভাবে দায়িত্ব পালন করে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সমাজের অন্য অংশীজনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

অধ্যাপক শহিদুজ্জামান জাতিসংঘের উদ্দেশ্যে বলেন, “জাতিসংঘের উচিত অবিলম্বে এই এগ্রিমো প্রত্যাখ্যান করা। আর জাতিসংঘ যদি এগ্রিমো প্রত্যাখ্যান না করে তাহলে বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে এই এগ্রিমো প্রত্যাখ্যান করা। জাতিসংঘকে সাফ জানিয়ে দেওয়া উচিত যে, আমরা কোনো সমকামীকে গ্রহণ করব না।”

রিচার্ড এস হাওয়ার্ড জুনিয়র পিএইচডি ডিগ্রীধারী এবং তার গবেষণার অন্যতম মূল বিষয় লিঙ্গ সমতা। ৩০ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কূটনীতিক ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে পাপুয়া নিউগিনিতে জাতিসংঘের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT