
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ক্যাম্পাসজুড়ে এখন উৎসবমুখর আবহ। চারদিকে সাজসজ্জা আর মনোমুগ্ধকর আলোকছটায় রূপ নিচ্ছে প্রিয় ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে সব আয়োজন ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান।
সকালে থেকেই একাডেমিক ভবন, হল, গ্রন্থাগার ঘিরে ভিড় জমাবে নতুন শিক্ষার্থীরা। তাদের উচ্ছ্বসিত পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে প্রতিটি প্রাঙ্গণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার প্রবেশের অনুভূতি ভেসে উঠবে সবার চোখেমুখে। আর সন্ধ্যা নামলেই ঝলমলে আলোকসজ্জায় যেন রঙিন উৎসবে ভেসে উঠবে শেকৃবি।
নবীনদের মধ্যে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার শেষ নেই। কৃষি অনুষদের নবীন শিক্ষার্থী সায়েদ আহমেদ শুভ প্রথম দিনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, “শেকৃবি ক্যাম্পাসে এসে মনে হচ্ছে এক নতুন পৃথিবীর দরজায় পা রাখলাম। চারদিকে যে পরিবেশ দেখছি, তা আমাকে মুগ্ধ করছে। আমি চাই এখান থেকেই শুরু হোক আমার স্বপ্নের পথচলা।
কৃষি অনুষদ অন্য একজন নবীন শিক্ষার্থী পায়েল পারমিতা প্রজ্ঞা বলেন,”প্রথমত যেদিন ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছি শুনলাম,তখনই অনেক উৎফুল্ল ছিলাম,কোন ভার্সিটি তে চান্স হবে,কেমন ভার্সিটি হবে অনেক কিছু,পরে যখন শুনলাম,আমি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি,তখন তো খুশির সীমাই ছিলোনা,প্রতিটা দিন প্রতিক্ষায় থাকতাম,কবে ক্লাস শুরু, কবে সব বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা করবো। অবশেষে সেই দিন আসলো,আর শেকৃবির আলোকসজ্জা নিয়ে আসলে কিছু বলার নেই,যেই দেখবে,সে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য।সর্বোপরি আমার বিশ্ববিদ্যালয়,কিছু প্রিয় সিনিয়র এবং বন্ধু-বান্ধব সকলকে পেয়ে আমি অনেক বেশি আনন্দিত! এই আনন্দকে সঙ্গী করেই পরবর্তী জীবনকে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিতে
আগামীকাল দিনব্যাপী চলবে নানা আয়োজন। সকালে আনুষ্ঠানিক ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে নবীনদের পথচলা শুরু হবে। দুপুরে থাকবে মধ্যাহ্ন বিরতি। আর বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেন পুরো ক্যাম্পাসকে প্রাণবন্ত করে তুলবে। গানের সুর, কবিতার আবৃত্তি আর নাটকের পরিবেশনায় সন্ধ্যা নামবে এক উৎসবমুখর আবহে।
পুরনো শিক্ষার্থীদের কাছে নবীনবরণ মানেই আনন্দ আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। তাদের ভাষায়, এটি শুধু অনুষ্ঠান নয়—বরং নতুনদের স্বপ্ন বুনে দেওয়ার দিন। অন্যদিকে নবীনদের কাছে এটি জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যেখানে শুরু হবে নতুন সংগ্রাম, নতুন সম্পর্ক আর নতুন স্বপ্নপূরণের গল্প।
আগামীকাল তাই শেকৃবি ক্যাম্পাস হয়ে উঠবে নবীনদের মিলনমেলা। আলো ঝলমলে পরিবেশ, গান, আড্ডা আর হাসিতে মুখর থাকবে প্রতিটি প্রাঙ্গণ। নবীনদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে শেকৃবি—যেখানে শুরু হবে ভবিষ্যতের নতুন সূচনা।