ছাদের সৌরবিদ্যুৎ: প্রণোদনার সঙ্গে চাই স্বচ্ছ হিসাব ও গ্রাহকের অধিকার

- আপডেট সময় বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
- ৭ বার দেখা হয়েছে


ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু কোনো প্রণোদনার ঘোষণা কার্যকর হয় তখনই, যখন একজন সাধারণ গ্রাহক বুঝতে পারেন কীভাবে আবেদন করবেন, কী খরচ হবে, কত ইউনিট বিদ্যুৎ গণনা হবে এবং কবে অর্থ পাবেন। তাই সৌরবিদ্যুতের প্রসারে প্রযুক্তির পাশাপাশি গ্রাহকসেবার সংস্কারও জরুরি।
প্রথম শর্ত হলো স্বচ্ছ নিয়ম। কোন ধরনের প্যানেল ও ইনভার্টার অনুমোদিত, নিরাপত্তা পরীক্ষা কে করবেন, নেট মিটার বসাতে কত সময় লাগবে এবং অভিযোগের নিষ্পত্তি কোথায় হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায় সহজ বাংলায় প্রকাশ করতে হবে। একই এলাকায় ভিন্ন গ্রাহকের জন্য ভিন্ন ব্যাখ্যা বা অনানুষ্ঠানিক ফি আদায়ের সুযোগ রাখা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, প্রণোদনার হিসাব যাচাইযোগ্য হওয়া চাই। গ্রাহকের মাসিক বিলে উৎপাদিত, নিজে ব্যবহার করা ও গ্রিডে পাঠানো বিদ্যুতের পরিমাণ আলাদা করে দেখাতে হবে। ব্যাংক হিসাবে টাকা জমার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যাবে, সেটিও লিখিত থাকতে হবে। অনলাইন ড্যাশবোর্ডের পাশাপাশি বিদ্যুৎ অফিসে সরাসরি সহায়তার ব্যবস্থা প্রয়োজন, কারণ সব গ্রাহকের ডিজিটাল দক্ষতা সমান নয়।
তৃতীয়ত, সুযোগ যেন শুধু বড় ভবন বা উচ্চ আয়ের পরিবারের মধ্যে সীমিত না থাকে। ছোট ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণের উপযোগী আর্থিক ও কারিগরি মডেল তৈরি করতে হবে। সাশ্রয়ী ঋণ, মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি এবং নিরাপদ স্থাপনার বিষয়ে স্বাধীন পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর সক্ষমতা ও গ্রিডের নিরাপত্তাকে অবহেলা করা যাবে না। কত সংযোগ দেওয়া হয়েছে, কত বিদ্যুৎ গ্রিডে এসেছে, কত অর্থ পরিশোধ হয়েছে—এই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত। লক্ষ্য শুধু নতুন প্যানেলের সংখ্যা বাড়ানো নয়; লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি বিশ্বাসযোগ্য, নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রতীকী ছবি: Unsplash






Leave a Reply