এলডিসি উত্তরণে বাড়তি তিন বছর: সময় নয়, সংস্কারের ফলই হবে আসল পরীক্ষা

- আপডেট সময় শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
- ১৯ বার দেখা হয়েছে


বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমাবে। কিন্তু এই সময়কে সাফল্য ধরে নেওয়া ভুল হবে। ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়তি সুযোগ পাওয়ার অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় হাতে পাওয়া। এখন প্রশ্ন, সেই সময়ের কতটা কাজে লাগানো হবে।
রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা শুধু শুল্কসুবিধার ওপর নির্ভর করে টেকসই হতে পারে না। উৎপাদনশীলতা, পণ্যের বৈচিত্র্য, দক্ষ জনশক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ ও পরিবহনের ব্যয়, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা শুরুর প্রশাসনিক জটিলতা কমানোও জরুরি।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিভিন্ন বাজারে যে বাণিজ্যসুবিধা ধাপে ধাপে বদলাবে, তার প্রভাব খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করা উচিত। ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রস্তুতির পরিকল্পনা বড় শিল্পগোষ্ঠীর পরিকল্পনা থেকে আলাদা হতে পারে। সরকার, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি ও গবেষকদের আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত রূপান্তর কর্মসূচি তৈরি করা প্রয়োজন।
বাড়তি সময়ের অগ্রগতি পরিমাপযোগ্য হতে হবে। প্রতি ছয় মাসে রপ্তানি বৈচিত্র্য, উৎপাদন দক্ষতা, বাণিজ্য প্রক্রিয়ার সময়, কর্মসংস্থানের মান ও নীতিগত সংস্কারের বাস্তব অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ফারাক বোঝা সহজ হবে।
২০২৯ সালের সময়সীমা কোনো অনির্দিষ্ট অবকাশ নয়। যথাযথ প্রস্তুতি নিলে উত্তরণ হবে অর্থনৈতিক সক্ষমতার স্বাভাবিক ধাপ; প্রস্তুতি না নিলে একই সমস্যা তিন বছর পর আরও কঠিন হয়ে ফিরে আসবে। তাই এখনই নির্দিষ্ট দায়িত্ব, সময়সীমা ও জবাবদিহিসহ সংস্কারের কাজ শুরু করা প্রয়োজন।






Leave a Reply