
ইন্দোনেশিয়া মক্কায় একটি নিজস্ব ‘হজ ভিলেজ’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য হলো হজযাত্রীদের খরচ কমানো এবং নিরাপদ, আধুনিক আবাসন নিশ্চিত করা। জাকার্তায় ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশটির শটির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল দানান্তারা (Danantara) মসজিদ আল-হারাম থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে একটি নতুন জমি কিনতে যাচ্ছে। এই জমিতেই নির্মিত হবে ‘হজ ভিলেজ’, যেখানে ইন্দোনেশীয় হজযাত্রীদের জন্য সুলভ, নিরাপদ ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ইন্দোনেশিয়া ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬ অনুষ্ঠানে দানান্তারার সিইও রোজান রোসলানি জানান, হজ ভিলেজে মোট ১৩টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প সম্পন্ন হলে একসঙ্গে প্রায় ২২ হাজার হজযাত্রী সেখানে অবস্থান করতে পারবেন।

নতুন জমির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কাবা শরিফের কাছাকাছি অবস্থান। হজযাত্রীদের চলাচল সহজ করতে এখানে সরাসরি একটি টানেল বা সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে যাতায়াতের সময় ও কষ্ট দুটোই কমবে।
এর আগে ইন্দোনেশিয়া মক্কার থ্যাকের সিটি এলাকায় নভোটেল হোটেলসহ প্রায় ৪.৪ হেক্টর জমি কিনেছিল। সেই এলাকা মসজিদ আল-হারাম থেকে প্রায় ২.৫ কিলোমিটার দূরে। নতুন ৬০০ মিটার দূরের জমিটি মূলত সেই প্রকল্পের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। কিন্তু উচ্চ খরচ এবং মানসম্মত আবাসনের অভাব দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নিজস্ব ভবন নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে হোটেল ভাড়ার ওপর নির্ভরতা কমবে, ফলে হজযাত্রীরা খরচে উল্লেখযোগ্য হ্রাস আশা করতে পারবেন।
প্রকল্পটি কেবল থাকার জায়গা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ হজ ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। হজ ভিলেজে থাকবে শপিং মল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ইন্দোনেশীয় খাবার ও সংস্কৃতির সুবিধা, যাতে হজযাত্রীরা নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবা পান।
সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো জানান, সৌদি আরব সরকার প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি দেশকে মক্কায় জমির ফ্রিহোল্ড মালিকানা করার অনুমতি দিয়েছে। পরিবর্তিত আইনের আওতায় ইন্দোনেশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে মক্কায় নিজস্ব হজ ভিলেজ স্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে।
প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০২৮–২০২৯ সালের মধ্যে হজ ভিলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করবে।