যেভাবে এলো 'তব তবি তব তব তবা লী' গানটি - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
আওয়ামী দোসরদের নতুন জোট এনডিএফ–এর আত্মপ্রকাশ তুরস্কের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কুবির সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর কওমি ডিগ্রিধারীদের জন্য কাজী হওয়ার দরজা খুলল; আরও সরকারি খাত উন্মুক্তের দাবি সীমান্তে তীব্র গুলি বিনিময়, পাকিস্তান–আফগানিস্তান উত্তেজনা চরমে জাককানইবিতে সমুদ্র ও জলবায়ু–বিষয়ক ‘Exploring the Blue Earth’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দুধকুমার নদে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ, স্বস্তিতে তীরবর্তী বাসিন্দারা ইবিতে জুলাই বিপ্লববিরোধী অভিযোগে ফের ৯ শিক্ষক বরখাস্ত নানিয়ারচর জোন (১৭ই বেংগল) এর মানবিক উদ্যো‌গে বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম নির্বাহী পরিচালক হলেন মো. সাদি উর রহিম জাদিদ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ইবিতে আলোচনা সভা

যেভাবে এলো ‘তব তবি তব তব তবা লী’ গানটি

সালমা মুহসিনাত
  • আপডেট সময় শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫
  • ৯২৫ বার দেখা হয়েছে
তব তবি তব তব তবালী
ছবি: সংগৃহীত

তব তবি তব তব তবা লী ১২০০ বছর আগে ঈমাম আসমায়ী রহ: এর লেখা একটি কবিতা। এটার নাম ‘صوت صفير البلبل’ (সওতু সফীরিল বুলবুলি)। এইটুকু জানা ছিলো। কিন্তু এই কবিতাটি লেখার পেছনে একটি সুন্দর ঘটনা আছে। সেটা আমার জানা ছিলো না। ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে উইকিতে পেয়েছি। ঘটনাটা পড়ে ভালো লাগায় Tajin আপুর সাথে শেয়ার করেছিলাম। উনি গুছিয়ে গল্পটা লিখে দিয়েছেন। আমাদের একা আনন্দ পেতে ইচ্ছা করছিলো না। তাই আমি আপনাদের সাথে সেটা শেয়ার করতে এলাম।

ঘটনাটা হচ্ছে-
আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল মানসুর অনেক মেধাবী আর চতুর খলিফা ছিলেন, তিনি কবিদের পুরষ্কার থেকে বঞ্চিত করার জন্য এক প্রকার কৌশল অবলম্বন করতেন। তিনি এতটাই মেধাবী ছিলেন যে, যেকোনো কবিতা একবার শুনলেই তিনি মুখস্থ করে ফেলতেন। তার একজন গোলাম ছিল যে দুইবার শুনলে মুখস্থ করতে পারতো আর একজন দাসী ছিল যে তিনবার শুনলে মুখস্থ করতে পারতো।

তাই যখনই কোনো কবি তার কবিতা শুনাতে আসতো, তখন তিনি (খলীফা) একবার শুনেই মুখস্থ করে ফেলতেন, এবং বলতেন: এই কবিতা তো আমি আগেও শুনেছি। এটা নতুন কোনো কবিতা নয়, সুতরাং তুমি পুরষ্কার পাবে না।
খলিফা এবং কবি দুইজন দুইবার আবৃত্তি করাতে তার গোলামটাও মুখস্থ করে ফেলে, এবং খলিফার দল ভারী হয়ে যায়। পরবর্তীতে গোলামও যখন আবৃত্তি করে তখন তিনবার শোনায় দাসীটাও মুখস্থ করে ফেলে। এবং বলে, আমিও তো শুনেছি এই কবিতা। এরপর আর কোনো কবিকেই তার নির্ধারিত পুরষ্কার দেয়া হয় না।

একবার খলিফা ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি এমন কবিতা আমাকে শুনাতে পারবে যেটা আমি আগে কখনো শুনিনি (অর্থাৎ, যেটা খলীফা মুখস্থ করতে পারবে না), তাহলে কবিতা যে পাত্রে লেখা হবে সেই পাত্রের ওজনে স্বর্ণমুদ্রা দেয়া হবে কবিকে।
তখন ” الأصمعي” নামক একজন বিখ্যাত কবি বুঝতে পারেন যে, এতে কোনো ধরনের চালাকি রয়েছে। তাই তিনি অত্যন্ত দুর্বোধ্য ভাষায় একটা কবিতা রচনা করেন, যার নাম ” صوت صفير البلبل”। এবং নিজে বেদুইনের বেশ ধরে খলিফার দরবারে গিয়ে এই কবিতা শুনান, যা খলিফা কোনোভাবেই মুখস্থ করতে পারেন না। ফলে বাধ্য হয়ে খলিফা তাকে পুরষ্কার দিতে রাজি হন, এবং জিজ্ঞেস করেন, তুমি কোন কাগজে কবিতাটা লিখেছো সেটা দেখাও, ওজন করে আমি তোমাকে স্বর্ণমুদ্রা দিচ্ছি।

তখন কবি বলেন ; আমি কোনো কাগজে লিখিনি কবিতা, বরং একটা বড় পাথরে খোদাই করে লিখেছি যা দশজন সৈন্য বহন করে আনছে। অতঃপর খলিফা সেই পাথরের সমপরিমাণ স্বর্ণমুদ্রা তাকে দান করলো।
একপর্যায়ে কবিকে দেখে খলিফার মন্ত্রি বলে উঠলো: এই কবি নিশ্চয়ই ” الأصمعي”
খলিফা বললেন, তুমি সত্যিই الأصمعي? তুমি তো আমার সাথে প্রতারণা করেছো। আমার স্বর্ণ ফেরত দাও।
তখন আসমায়ী রহ: বললেন, আমি স্বর্ণ ফেরত দিব যদি আপনি আমার শর্ত মানেন। শর্তটা হলো, যত কবি আপনাকে কবিতা শুনাতে আসবে সবার ন্যায্য পুরষ্কার প্রদান করবেন।

এরপর থেকে খলিফা কবিদেরকে ন্যায্য পুরষ্কার দেয়া শুরু করেন।

আমাদের পথ চলায় সঙ্গী হন আপনিও:

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT