নোটিশ:

শত বছরের নৌকাবাইচে ১১ বছরের ডিকা’র নাচে বাজিমাত, পর্যটন দূত সম্মান পেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ১৮৫ বার দেখা হয়েছে
dika dance

ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচে নাচ করে বিশ্ব মাতিয়েছে ১১ বছর বয়সী এক শিশু। ডিকা নামে পরিচিত রায়ান আর্কান ডিকা চলন্ত নৌকার গলুইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে নাচের বিশেষ ভঙ্গি দেখিয়ে শুধু স্থানীয় উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, অনলাইনে রীতিমতো বৈশ্বিক ট্রেন্ড তৈরি করে ফেলেছে। ‘অরা ফার্মিং’ নামে এই নতুন নাচের ধারা এখন ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
ভিডিওটি দেখতে ভিজিট করুন “সাবাস বাংলাদেশ” এর ফেসবুক পেইজে

ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘পাচু জালুর’ নৌকাবাইচে প্রতিটি নৌকায় ২০ থেকে ৪০ মিটার লম্বা কাঠের নৌকায় প্রায় ৫০ জন মাঝি থাকেন। আর সেই নৌকার সামনের অংশে থাকেন ‘তুকাং তারি’ বা নৃত্যশিল্পী, যিনি নাচের মাধ্যমে মাঝিদের উজ্জীবিত করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ডিকা। নাচের সময় ডিকার শান্ত ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস আর হাত-পা নাড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসার স্টাইল এখন কোটি কোটি মানুষের অনুকরণে পরিণত।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘লেনসা রামস’ নামে এক ব্যবহারকারী ডিকার নাচের ভিডিও প্রথম টিকটকে পোস্ট করলে সেটি ধীরে ধীরে ভাইরাল হয়। সম্প্রতি হঠাৎ করে আন্তর্জাতিকভাবে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসি ডিকার নাচ অনুকরণ করে ভিডিও প্রকাশ করেন, যা ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ দেখেছে। মার্কিন ফুটবল তারকা দিয়েগো লুনা পর্যন্ত মাঠে গোল করার পর ডিকার মতো নেচে উদযাপন করেছেন। এমনকি বেসবল দল ‘পার্টি অ্যানিম্যালস’-এর খেলোয়াড়রাও মাঠে এই নাচ পরিবেশন করে ভাইরাল হয়েছেন।

ডিকার এই বৈশ্বিক পরিচিতি আর স্থানীয় সংস্কৃতি প্রচারের জন্য সম্প্রতি রিয়াউ প্রদেশের গভর্নর আবদুল ওয়াহিদ তাঁকে ‘পর্যটন দূত’ ঘোষণা করেছেন। সেই সঙ্গে ২০ মিলিয়ন রুপিয়াহ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ডিকা গভর্নর ও সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে নিজের জনপ্রিয় নাচ পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। এসময় ডিকা জানায়, ‘আমি খুব খুশি। কখনো ভাবিনি যে গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে পারব।’

আগামী আগস্টে আবারো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘পাচু জালুর’ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। সেখানে আবারও অংশ নেবে এই বিস্ময়বালক। ডিকার এই সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে, ছোট্ট এক শিশুর হাত ধরে কীভাবে একটি শত বছরের সংস্কৃতি বিশ্বদরবারে নতুনভাবে জায়গা করে নিতে পারে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT