অর্থের বিনিময়ে ইউরোপীয় নাগরিকত্বের সুযোগ শেষ - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
কারাগারে ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির ৮৫% নষ্ট: সুপ্রিম কোর্টে মেডিকেল রিপোর্ট জমা নারী প্রার্থীকে কেন্দ্রের সামনে চড়থাপ্পড়ের অভিযোগ, হাসপাতালে হাবিবা নির্বাচনের দিন চার ধাপে ভোটের হার পাঠাতে নির্দেশ ইসির ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি শায়খ আহমাদুল্লাহ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আমার ভোটে জিতবে যে, দায় আমারও যা করবে সে যানবাহনে বিধিনিষেধ: ভোটের আগে–পরে চলাচলে কড়াকড়ি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললেও শাস্তি নয়, বাংলাদেশকে নতুন আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের আশ্বাস ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকীতে ইরানে ২ হাজারের বেশি বন্দির সাজা মওকুফ রোহিঙ্গা সংকটে ২০ লাখ ইউরো সহায়তা দিল ইইউ

অর্থের বিনিময়ে ইউরোপীয় নাগরিকত্বের সুযোগ শেষ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫
  • ১১৮ বার দেখা হয়েছে
ইউরোপীয় নাগরিকত্ব,গোল্ডেন পাসপোর্ট

অর্থের বিনিময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোনো দেশে নাগরিকত্ব পাওয়ার সর্বশেষ সুযোগটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপের শীর্ষ আদালত এই ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে এখনও কিছু বিকল্প সুযোগ ইইউ দেশগুলোর সামনে খোলা রয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল ইউরোপীয় বিচার আদালতের (ইসিজে) রায়ে বিস্মিত হয়েছেন মাল্টার নাগরিক সংগঠন ‘রিপাবলিকা’র নির্বাহী মানুয়েল ডেলিয়া, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মসূচির বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছিলেন। রায়ের পর ডেলিয়া বলেন, “আমি চিৎকার করে উঠেছিলাম, খারাপ খবরের অপেক্ষাতেই ছিলাম।”

ইইউ-এর মধ্যে মাল্টা ছিল শেষ দেশ, যেখানে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ছিল। এর আগে বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাস এমন কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। ডেলিয়া মনে করেন, মাল্টার সাংবাদিক দাফনে কারুয়ানা গালিজিয়ার হত্যাকাণ্ড এই কর্মসূচির বিপদের দিকটি সামনে নিয়ে এসেছিল।

২০২২ সালে ইউরোপীয় কমিশন মাল্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, কারণ নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্রকৃত সংযোগ’ না রেখেই সেখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল। আদালত জানিয়েছে, এ ধরনের নাগরিকত্ব শুধুই বাণিজ্যিক লেনদেন হিসেবে গণ্য হয়, যা ইইউ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্ক গঠনে প্রতিবন্ধক।

[inlinkreadmore text=”চীন-পাকিস্তান-আফগানিস্তান: এক টেবিলে বন্ধুত্ব ও নিরাপত্তা” url=”https://dailysabasbd.com/paktan-china-afghanistan-trilateral-meeting-kabul/“]

ডেলিয়া বলেন, “আপনি নাগরিকত্বের দাম নির্ধারণ করতে পারেন না। এটি অর্থের চেয়েও বেশি কিছু।”

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাল্টায় দেওয়া ১০টি গোল্ডেন পাসপোর্টের মধ্যে ৯টিই পেয়েছেন চীনা বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বসবাসরত চীনা নাগরিকদের সংখ্যার চেয়ে তা বেশি, যা কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এদিকে আদালতের রায়ের পরও মাল্টার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট আবেলা জানিয়েছেন, কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে এবং রায় অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করে তা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

গোল্ডেন পাসপোর্ট বন্ধ হলেও, ‘গোল্ডেন ভিসা’র মাধ্যমে বিনিয়োগের বিনিময়ে ইউরোপে বসবাসের সুযোগ এখনও রয়েছে। এই সুযোগে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের মতো প্রতিষ্ঠান ৩১টি দেশে এমন সেবা দিয়ে থাকে, যার প্রায় অর্ধেক ইইউভুক্ত।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা আনা টেরন বলেন, এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু সুবিধা এখনও পাওয়া সম্ভব। তবে এতে নিরাপত্তা, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির ঝুঁকি থেকেই যায়।

২০২২ সালের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক রেজ্যুলেশনে গোল্ডেন ভিসার মতো স্কিমগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বই দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আনা টেরন ও ডেলিয়া উভয়ই মনে করেন, নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত প্রকৃত সম্পর্ক ও আইনি প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে, অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে নয়। ডেলিয়ার ভাষায়, “যখনই এর মূল্য নির্ধারণ করবেন, তখনই এর মান নেমে যাবে।”

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT