কুমিল্লায় আবিষ্কৃত ৩৫০ বছরের পুরোনো ক্ষুদ্র কোরআন - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন এমবিই নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম এর সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুবিস্থ চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে শরিফুল-ফয়সাল  ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্র্যান্ট পেল কুবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পিএইচডির সুপারিশ পেলেন ১৩ শিক্ষার্থী কুবিতে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ক্লাবের উদ্যোগে শুরু ‘ফিন ফেস্ট’ আড়াইহাজারে হাফিজিয়া মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের ১০টি মোবাইল ভাঙচুর, ভিডিও ভাইরাল আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি আজ শুরু, তিন সপ্তাহ চলবে টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদে মাইন বিস্ফোরণ: যুবকের পা উড়ে গেল, সড়ক অবরোধ কুবিতে ৬ শিক্ষার্থীকে ফোবানা স্কলারশিপ প্রদান  নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ দাবি করলেন ট্রাম্প

কুমিল্লায় আবিষ্কৃত ৩৫০ বছরের পুরোনো ক্ষুদ্র কোরআন

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৯ বার দেখা হয়েছে

দেড় ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এই বিরল কোরআন মজিদ ইয়েমেন থেকে আগত এক পরিবারের উত্তরাধিকার, গবেষকদের মতে এটি ইসলামী ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ

কুমিল্লায় আবিষ্কৃত হয়েছে এক বিরল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় নিদর্শন—প্রায় ৩৫০ বছরের পুরোনো ক্ষুদ্র কোরআন । আকারে দেড় ইঞ্চি লম্বা, এক ইঞ্চি চওড়া এবং এক-চতুর্থাংশ ইঞ্চি পুরু এ কোরআন এতটাই ছোট যে খালি চোখে এর লেখা পড়া যায় না, পড়তে হয় আতশি কাচের সাহায্যে। স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রাচীন ও ক্ষুদ্রতম কোরআনের কপি।

ঐতিহাসিক এই কোরআন মজিদটি বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে কুমিল্লা নগরের তালপুকুরপাড় এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা জামিল আহমেদ খন্দকারের (৭৫) কাছে। তিনি জানান, তার পূর্বপুরুষেরা ইয়েমেন থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে এসেছিলেন। ধারণা করা হয়, সেই পরিবারের মাধ্যমেই শত শত বছর আগে এ কোরআনটি বাংলাদেশে আসে। বাবা আবদুল মতিন খন্দকারের মৃত্যুর পর থেকে তিনি এটি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করে আসছেন।

ঐতিহ্য গবেষক আহসানুল কবির বলেন, প্রায় ৭০০ বছর আগে কুমিল্লায় মুসলমানদের আগমন ঘটলেও এখানে মুসলিম সভ্যতার বিকাশ শুরু হয় প্রায় ২৫০ বছর আগে। তখন ইয়েমেন ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাধক ও সম্ভ্রান্ত পরিবার ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এখানে বসতি স্থাপন করেন। জামিল আহমেদের পরিবারও সে সময় কুমিল্লায় স্থায়ী হয়। গবেষকের মতে, এ ধরনের নিদর্শন শুধু পারিবারিক নয়, বরং আঞ্চলিক ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।

ইসলামি ইতিহাস গবেষক সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম জানান, এ ধরনের ক্ষুদ্র কোরআন মজিদ বাংলাদেশে লেখা বা ছাপা হতো না। সাধারণত ইসলামি বিশ্বের অন্য দেশ থেকে সেগুলো আনা হতো। সে সময় এটি ছিল বিরল এবং অন্যতম ক্ষুদ্র কোরআনের কপি। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আরও ছোট সংস্করণ তৈরি সম্ভব হলেও শত শত বছর আগে এত ক্ষুদ্র কপি তৈরি করা ছিল অত্যন্ত জটিল ও বিশেষজ্ঞসুলভ কাজ।

স্থানীয় গবেষকরা মনে করেন, জামিল আহমেদের হাতে সংরক্ষিত এ কোরআন শুধু একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মূল্যবান দলিল। দীর্ঘদিন ধরে নিদর্শনটি রক্ষা করায় তিনি প্রশংসা পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরআন মজিদটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হলে এটি দেশি-বিদেশি গবেষক ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় সম্পদে পরিণত হবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT