নোটিশ:

কুবিতে জুমার নামাজে জায়গা সংকট, ৬ মাস ধরে বন্ধ মসজিদ সম্প্রসারণ কাজ

প্রতিবেদকের ছবি
শারাফাত হোসাইন, কুবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১২ বার দেখা হয়েছে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের দ্বিতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজ অর্থ সংকটের কারণে গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতি সপ্তাহে জুমার নামাজে জায়গা সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জুমার নামাজের আগে থেকেই মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। মসজিদের মূল ভবনে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ জন মুসল্লির ধারণক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে উপস্থিতির সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। এতে অনেককে অযুখানা, সিঁড়ি, প্রধান ফটকের সামনে কিংবা মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করতে হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় কেউ কেউ নামাজ না পড়েই ফিরে যাচ্ছেন। তীব্র রোদ ও গরমে কষ্ট করে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে অনেককে।

প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় মসজিদের দ্বিতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজ ২০২৫ সালের জুন মাসে শুরু হলেও একই বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বাজেট সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার হাসান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় মসজিদে জায়গার সংকটের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসন কিছু সংস্কার কাজ শুরু করলেও পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবে তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিশেষ করে দ্বিতীয় তলার কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় জুমার দিন ও বিশেষ সময়ে শিক্ষার্থীদের খোলা জায়গায় তপ্ত রোদ ও ধুলাবালির মধ্যে নামাজ আদায় করতে হয়। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, প্রয়োজনে নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দিয়ে হলেও দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হোক।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান অনেকাংশে নির্ভর করে মৌলিক সমস্যার সমাধানের ওপর। প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এমন ছোট মসজিদ যথেষ্ট নয়। কয়েক মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রতি জুমায় অনেকেই সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েন, আবার কেউ কেউ জায়গা না পেয়ে জামাতে অংশ নিতে পারেন না। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”

কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মো. খলিলুর রহমান কাছেমি বলেন, “দিন দিন মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আশপাশের মানুষও এখানে নামাজ পড়তে আসেন। ফলে প্রতি শুক্রবারে জায়গা সংকট দেখা দেয়। দ্বিতীয় তলার ছাদ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কাজ শেষ হলে সমস্যার সমাধান হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস. এম. শহীদুল হাসান বলেন, “চলতি অর্থবছরে ছাদ নির্মাণ পর্যন্ত বাজেট ছিল। বাকি কাজের জন্য ইউজিসির কাছে বাজেট চাওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ পেলে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “পূর্ণাঙ্গ কাজের জন্য বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে বরাদ্দ কম পাওয়ায় প্রাপ্ত অর্থ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বাজেটের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করা যাবে।”

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT