
প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, আর বিকেলে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশের পর সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সকালে এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সাধারণত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গভবন–এর দরবার হলে। তবে এবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজায়। গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদ ভবনকে প্রতীকী গুরুত্ব দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংসদ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। তাদের শরিকদের নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট পেয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন। দুটি আসনের ফল আদালতের নির্দেশনায় স্থগিত রয়েছে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, শপথ কক্ষ, অধিবেশন কক্ষ, স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। অবকাঠামোগত সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ পর্যায়ে।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে এমপিদের শপথ নিতে হয়। শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত কেউ সংসদ সদস্য হিসেবে কার্যকর হন না। শপথের পরপরই সরকার গঠন ও সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
দুই দশক পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রশাসনিক কার্যক্রম পূর্ণতা পাবে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।