
শনিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পূর্ব ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী ৭ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী পরীক্ষাসমূহ অনুষ্ঠিত হবে। ছুটিকালীন সময়ে সব আবাসিক হল বন্ধ থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের ২৪ নভেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে হল খালি করতে হবে।
এছাড়া শীতকালীন ছুটি এগিয়ে এনে ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটি শেষে ৭ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ, অফিস, ক্লাস ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম যথারীতি চালু হবে।
এর আগে সকালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আগত প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্পাসের সব ভবন ও হল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ভবন ও হলগুলোতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়। শহীদ আজিজ হলের ৪০১ ও ৪০৩ নম্বর কক্ষকে বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করে তাৎক্ষণিক মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শহীদ আজিজ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব বলেন, পরপর ভূমিকম্পের কারণে বিভিন্ন হলে ফাটলসহ অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। “আমরা সরেজমিনে কক্ষগুলো দেখেছি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছি। যে কোনো পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা মানতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার,” বলেন তিনি।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থী মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, “সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর থেকে হলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাস্তা দিয়ে বড় কোনো গাড়ি গেলেই বিল্ডিং কেঁপে ওঠে। তখনই মনে প্রশ্ন জাগে—এটা কি গাড়ির কম্পন, নাকি আবার ভূমিকম্প?”
গত দুই দিনের ভূমিকম্পে বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলের ১ম থেকে ৪র্থ তলার এক্সটেনশন অংশের দেয়ালে ফাটল, শহীদ আজিজ হলের সিলিংয়ের বিম ও পিলারে ফাটল এবং ওসমানী হলে প্লাস্টার খসে পড়ার ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় গতকাল রাতেই আবাসিক শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ও পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধের দাবি জানান। উপাচার্য আশ্বাস দিলে তারা হলে ফিরে যান।