এইচএসসির ফলের পতন: দায় খোঁজার চেয়ে শেখার ঘাটতি পূরণ জরুরি

- আপডেট সময় শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
- ৭ বার দেখা হয়েছে


এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনেছে: শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে যত সময় কাটাচ্ছে, সেই সময়ের কতটা কার্যকর শেখায় রূপ নিচ্ছে? পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে নেমেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু শুধু পাসের হারকে শিক্ষা ব্যবস্থার একমাত্র মানদণ্ড বানালে সমস্যার গভীরতা আড়ালে থেকে যাবে।
একটি পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়া মানেই শিক্ষার্থী বা শিক্ষক এককভাবে ব্যর্থ—এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকের শূন্যপদ, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, পরীক্ষার মান, পাঠ্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি—সবই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। কোন কারণ কতটা দায়ী, তা তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
প্রথম কাজ হওয়া উচিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করা। গণিত, বিজ্ঞান, ভাষা ও বিশ্লেষণমূলক দক্ষতায় শিক্ষার্থীদের কোন জায়গায় সমস্যা, তা নির্ণয়ের জন্য নিয়মিত ছোট মূল্যায়ন, প্রয়োজনভিত্তিক সহায়ক ক্লাস এবং শিক্ষক-অভিভাবক আলোচনার ব্যবস্থা প্রয়োজন। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কেবল আবার পরীক্ষায় বসানোর প্রস্তুতি দিলে মৌলিক দুর্বলতা থেকে যেতে পারে।
একই সঙ্গে ফলাফল প্রকাশের পর স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য এবং পুনর্নিরীক্ষণের সহজ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যাবে না। একটি নম্বরপত্র তাদের সম্ভাবনার চূড়ান্ত পরিচয় নয়; বিকল্প শিক্ষাপথ, কারিগরি শিক্ষা এবং পরবর্তী শিক্ষার বাস্তবসম্মত পরামর্শ সহজলভ্য হওয়া উচিত।
সরকার, শিক্ষা বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি পরিমাপ করা উচিত পরবর্তী বছরে শিক্ষার্থীরা কতটা ভালো শিখেছে তার ভিত্তিতে। ফলাফলের পতন নিয়ে সাময়িক আলোড়নের বদলে ধারাবাহিক সহায়তা, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং বাস্তব অগ্রগতির সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন জরুরি।
ছবি: প্রতীকী।






Leave a Reply