চিকিৎসার ব্যয়ে দারিদ্র্য: স্বাস্থ্যসেবায় আর্থিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

- আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
- ৬ বার দেখা হয়েছে


একটি পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত যেন সঞ্চয় ভাঙা, ঋণ করা কিংবা প্রয়োজনীয় খাবার কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিণত না হয়। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় ২০০৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চিকিৎসার নিজস্ব ব্যয়ে আনুমানিক ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার তথ্য আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আর্থিক দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।
শুধু নতুন হাসপাতাল নির্মাণ বা যন্ত্রপাতি কেনা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ওষুধ, কার্যকর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী এবং নির্ভরযোগ্য রেফারেলব্যবস্থা না থাকলে মানুষকে শেষ পর্যন্ত ব্যয়বহুল বেসরকারি সেবার দিকে যেতে হয়। দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবার এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা প্রকাশ্যভাবে পর্যবেক্ষণ, ব্যয়বহুল চিকিৎসায় লক্ষ্যভিত্তিক আর্থিক সহায়তা এবং চিকিৎসার প্রকৃত খরচ সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং রোগী কী সেবা পাচ্ছেন, তার স্বাধীন মূল্যায়ন দরকার।
স্বাস্থ্যসেবায় আর্থিক সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়। চিকিৎসা নেওয়ার কারণে পরিবারকে নতুন করে দরিদ্র হতে না দেওয়া রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যনীতির অন্যতম প্রধান সফলতার মানদণ্ড হওয়া উচিত।
ছবি: প্রতীকী।






Leave a Reply