
শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর বদলে গেছে সরকারের অবস্থান; নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দেশে ফিরে বিচার মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন সাকিব।
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর সাকিবের বিষয়ে সরকারের আগের নমনীয় অবস্থান আর বহাল নেই।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে সাকিবকে নিয়ে সরকার নমনীয়ভাবে ভাবছিল। তবে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সেই অবস্থান বদলে গেছে। তিনি বলেন, যদি সাকিব দেশে ফেরেন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ফিরতে হবে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন সাকিব আল হাসান। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় রাজনৈতিক কারণেও তিনি আলোচনায় ছিলেন। সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার পর বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় আসে।
এদিকে, ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর মাগুরায় সাকিবের ফাঁকা বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, তিনি কেবল দেশের শান্তি ও অগ্রগতির কথা বলেছেন এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন সাকিব। সেখান থেকেই তিনি জানান, সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলাসহ সব ধরনের আইনি অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও রাজি আছেন বলে জানান এই অলরাউন্ডার।
সাকিব বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের সব প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল এই ক্রিকেটার।
তবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যের পর সাকিব আল হাসানের স্বাভাবিকভাবে দেশে ফেরা কিংবা জাতীয় দলের জার্সিতে আবার মাঠে নামার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।