দক্ষিণ কোরিয়ার নজরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, বড় বিনিয়োগ সম্ভাবনা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
বৃষ্টি উপেক্ষা করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ দর্শনার্থীদের ঢল সেমিকন্ডাক্টর খাতে সুখবর, আসছে বিশেষ প্রণোদনা দক্ষিণ কোরিয়ার নজরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, বড় বিনিয়োগ সম্ভাবনা জলাবদ্ধ এলাকায় কৃষিতে নতুন দিগন্ত: পলি নেট হাউসে বছরে ১০ লাখ পর্যন্ত মানসম্মত চারা উৎপাদন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, তফসিল ঘোষণা ইসির বায়তুল মোকাররমে জুমার আগে বয়ান দেবেন দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী ভারত ও পাকিস্তানের দুই ইসলামিক বক্তা আসছেন বাংলাদেশে, ঢাকা-চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক সেমিনার জীবিত থাকতেই নিজের ‘চল্লিশা’ করলেন বৃদ্ধ, খেলেন ২ হাজার মানুষ বালিয়াকান্দিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত একই জমিতে ধান, পাট, মাছ ও সবজি চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন রাজবাড়ীর কৃষক

দক্ষিণ কোরিয়ার নজরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, বড় বিনিয়োগ সম্ভাবনা

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
কৃত্রিম তন্তু (ম্যান-মেড ফাইবার)

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পকে উচ্চমূল্য সংযোজনভিত্তিক শিল্পে রূপান্তরের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সম্ভাবনা দেখছে। বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তু (ম্যান-মেড ফাইবার), ফাংশনাল ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় সেলাই যন্ত্রপাতি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি (কোটরা) ঢাকার উপ-পরিচালক লি সুং-হুন (ড্যানিয়েল লি) বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও শিল্পটি এখনও মূলত প্রাকৃতিক তন্তুনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্যের পোশাকের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে হবে।

তার মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় কাটিং ও সেলাই প্রযুক্তি, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, জ্বালানি-সাশ্রয়ী কারখানা এবং কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক কাপড় উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগের বড় সুযোগ রয়েছে।

লি সুং-হুন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের টেক্সটাইল যন্ত্রপাতির বাজারের আকার প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগও বাড়ছে। কোরিয়ান যন্ত্রপাতি গুণগত মান ও দামের ভারসাম্যের কারণে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিবেশগত ও কমপ্লায়েন্স নীতিমালা, বিশেষ করে ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট (ডিপিপি), ভবিষ্যতে রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হয়ে উঠবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশি পোশাক কারখানাগুলোকে আইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাধান দিতে কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে কোটরা।

বাংলাদেশে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিবেশবান্ধব লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা থাকলেও এখন আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থার উন্নয়নেও সহযোগিতা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।

কোটরার এই কর্মকর্তা স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৮ সালে ডেইউর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের ভিত্তি গড়ে তুলতে দক্ষিণ কোরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে কোরিয়ার উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের প্রায় ৭০ শতাংশই টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে কেন্দ্রীভূত।

পোশাক শিল্পের বাইরে ওষুধ, বায়োটেকনোলজি, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট অবকাঠামো এবং ভোগ্যপণ্য খাতেও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT