রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পোস্টারিং ও কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত ঢাবিতে ৩০ নভেম্বর থেকে সকল ক্লাস অনলাইনে — শীতকালীন ছুটি অনিশ্চিত ঝিনাইদহে কুলখানি–বিতর্কে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে পারেন খালেদা জিয়া

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পোস্টারিং ও কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

শারাফাত হোসাইন, কুবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার দেখা হয়েছে

অনুমতি ছাড়া মুক্তমঞ্চে কর্মসূচি ও হলে পোস্টার—সিসিটিভি দেখে তদন্তে প্রশাসন, অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আইনের তোয়াক্কা না করে পোস্টারিং ও দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।

শনিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মুক্তমঞ্চে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা আয়োজন করে সংগঠনটি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের দেয়াল ও বিজয়–২৪ হলের ৪০৫ নম্বর কক্ষের দরজায় দলীয় পোস্টার সাঁটানো হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কোনো সংগঠনের সভা করা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লঙ্ঘনই নয়, বরং শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষ পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত। এটি প্রশাসনিক নীতিমালাকে উপহাস করার শামিল। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং শান্তিপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”

আইন বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান রায়হান বলেন, “নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কর্মসূচি প্রশাসনের কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, যা শিক্ষাঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাদের ছাত্র সংগঠনের অপকর্ম আমরা দেখেছি। এসব কারণে জুলাই–পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে নিষেধাজ্ঞা বহাল ও কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানাই।”

হলের ৪০৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “কারা এখানে পোস্টার লাগিয়েছে জানি না। আমার মনে হয় ছাত্রদলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কেউ ষড়যন্ত্র করেছে।”

আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী সুমিত সরকার বলেন, “আমি রুমে ছিলাম না। কে পোস্টার লাগিয়েছে জানি না।”

এ বিষয়ে কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস কেবল ছাত্রদলের নয়, সকলের। প্রশাসন এ দিবস পালন করেনি কেন—এটাই প্রশ্ন। আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসরের দেওয়া সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে আমাদের দমন করা হচ্ছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

হলে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না। কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারে। আর যদি ভুলক্রমে কেউ করে থাকে, আমরা দুঃখিত।”

ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। মুক্তমঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত, তাই আমরা অনুষ্ঠান করেছি। হলে পোস্টার বিষয়ে আমাদের কোনো নির্দেশনা ছিল না এবং আমি কিছু জানি না।”

বিজয়–২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “ঘটনা জেনেছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ। আজকের প্রোগ্রামের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। ছবিতে শুধু খালি চেয়ার আর পোস্টার দেখেছি। ঘটনা তদন্ত করা হবে।”

উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০তম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রক্টরিয়াল বডির জরুরি নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT