
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬৪ জন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমানটি উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে থাকা একটি ক্লাসরুমের কাছেই বিধ্বস্ত হয় যুদ্ধবিমানটি। বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনসংলগ্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে ফেলে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে ঘটনাস্থলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
দুর্ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণির ক্লাস চলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বিমান ভেঙে পড়লে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে, অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই চারদিকে হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরা ছুটে আসেন সন্তানদের খোঁজে, কলেজের ফটকে জড়ো হয় উদ্বিগ্ন মানুষের ঢল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে, আর মাটিতে ছুটোছুটি করছেন আতঙ্কিত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে উদ্ধারকাজে নামে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী।

প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী অধ্যাপক ডা. অভিজিৎ জানান, হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মাইলস্টোনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল জানান, দুর্ঘটনার পর পুরো প্রতিষ্ঠানজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
এই শোকাবহ ঘটনায় আগামীকাল মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক শোকবার্তায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এটি জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং গভীর বেদনার মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সব হাসপাতাল ও প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং দ্রুত দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ঘটনার পর বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মুহাম্মদ জাহেদ কামাল নিশ্চিত করেন হতাহতের এই মর্মান্তিক তথ্য। আহতদের চিকিৎসায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে জরুরি হটলাইন চালু করা হয়েছে—হটলাইন নম্বর ০১৯৪৯০৪৩৬৯।