উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত
রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাইলস্টোন কলেজ সংলগ্ন এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
বিমান বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল এফ-৭ বিজেআই মডেলের একটি প্রশিক্ষণ জেট। এতে পাইলট হিসেবে ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার তোকির। সৌভাগ্যবশত এই দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
তুরাগ থানার ডিউটি অফিসার মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো দ্রুত পৌঁছেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, তারা দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পান এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আরও দুটি ইউনিট রাস্তায় প্রস্তুত রাখা হয়। পরে মোট আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি পাঁচ মিনিট আগে দুর্ঘটনার খবর পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে রওনা দেন। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার প্রকৃতি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সাদমান রুহসিন, যিনি কলেজের কাছাকাছি ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন রিক্রুটমেন্ট নামের একটি অফিসে কাজ করেন, জানান- “হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি একটি বিমান ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়েছে।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা কলেজ এলাকা ঘিরে ফেলেন এবং দ্রুত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। স্থানীয়রা জানান, আহতদের রিকশাভ্যানে ও অন্যান্য গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় সাময়িকভাবে মাইলস্টোন কলেজ চত্বর জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে এই ধরনের দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং আইএসপিআর (আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর) দায়িত্বশীলভাবে ঘটনাটির বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ ও বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।