ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলীরা এখনো দোর্দণ্ড প্রতাপে প্রভাব বিস্তার করছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে। সরকার পতনের এক বছরের পরেও এ দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তার অনুগতরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, তথ্য পাচার এবং বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কয়েকজন প্রকৌশলীকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় এসব প্রকৌশলী হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে পিডি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আর্থিকভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। এমনকি অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের কেউ শাস্তির মুখোমুখি হননি; বরং পদোন্নতিও পেয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মীর আব্দুস সহিদ জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং তদন্তের নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের ব্যানারে আওয়ামী লীগের অনুগত প্রকৌশলীরা বিভিন্ন দপ্তরে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো শিশির কুমার বিশ্বাস, শর্মিষ্ঠা দেবনাথ, বিধান চন্দ্র দে, সাইফুর রহমান, নাবিলা তাবাসসুম মিকি, নজরুল ইসলাম মিয়া, তুষার মোহন সাধু খাঁ, এহতেশামুল রাসেল খান, বাহার উদ্দিন মৃধা, নুর আহাম্মেদ, মুন্সি হাচানুজ্জামান, তবিবুর রহমান তালুকদার ও সুলতান মাহমুদ।
তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতা
ঠিকাদার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি
সরকারি তথ্য বিদেশে পাচার
ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি প্রকল্পের অপব্যবহার
পারসেন্টেজ বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়ম
বিশেষ করে, প্রকৌশলী শিশির কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে রয়েছে রাষ্ট্রীয় তথ্যভান্ডার ভারতের কাছে পাচারের অভিযোগ। তিনি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন একটি এমন প্রকল্পে, যার অধীনে ড্রোন দিয়ে সংগ্রহ করা বাংলাদেশের পৌর এলাকার গোপন তথ্য একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয় বলে এনএসআই জানিয়েছে।
এই প্রকৌশলীদের অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বারবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং সরকারের পরিবর্তন হলেও তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি অটুট রয়েছে বলে সূত্র জানায়।
দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা এসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে।