১৪ জুলাই ২০২৫
অপহৃত সুশান্ত কুমার খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক হিসেবে ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পাঁচজন ব্যক্তি তাকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। তারা প্রথমে তাকে মারধর করে, পরে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে একটি ট্রলারে করে রূপসা নদীর দিকে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়।
অপহরণের পর থেকে সুশান্ত কুমারের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর তার স্ত্রী খুলনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি মো. রেজা ও বাবু মণ্ডল নামে দুইজনের নাম উল্লেখ করেন। তারা আরও তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে এই অপহরণে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, “রেজা ও বাবু মণ্ডল আমার স্বামীকে মারধর করে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ট্রলারে তোলে। তারা নিজেদের পুলিশের লোক বলে পরিচয় দেয়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।”
এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম জানান, অভিযুক্তদের পুলিশ পরিচয় ভুয়া ছিল। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, চাঁদার জন্যই অপহরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। অচিরেই ইতিবাচক অগ্রগতি আশা করছি।”
এদিকে অপহরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সুশান্ত কুমারকে মারধর করতে করতে একটি ট্রলারে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপহৃত কর্মকর্তাকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।