নোটিশ:
শিরোনামঃ
নিজেকে বিয়ে করেছিলেন, এক বছর পর ‘নিজেকেই ডিভোর্স’ দিলেন সুয়েলেন কেরি চশমায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়া: সুবিধা, নাকি গোপন নজরদারির ঝুঁকি? অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষক সমিতির শোক র‍্যালি ও মানববন্ধন কুবিতে অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে এখনই সুরক্ষা পরিকল্পনা দরকার পোশাক কারখানা শীতল রাখার বিনিয়োগ চার বছরের মধ্যে উঠে আসতে পারে: গবেষণা জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ১৭.৪% বাড়ল, ডিজেল লিটারে ১৩৫ টাকা জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হেলথ এশিয়া কনফারেন্সে আন্তর্জাতিক বক্তা তানহা তাবাসসুম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মৌসুমি অভিযান নয়, বছরজুড়ে প্রস্তুতি চাই

শাহবাগের ‘প্রজন্ম চত্বর’ ভেঙে ‘জুলাই মনুমেন্ট’ তৈরির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১৬ বার দেখা হয়েছে
Shahbag-1

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে একসময় যে স্থাপনা ‘প্রজন্ম চত্বর’ নামে পরিচিত ছিল, সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। শনিবার (১২ জুলাই) রাতের আঁধারে এই ভাঙার কাজ শুরু হলে মুহূর্তেই সেটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক্সক্যাভেটর দিয়ে স্থাপনাটিকে একের পর এক ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। আজ রোববার (১৩ জুলাই) সকাল পর্যন্ত পুরো ভাঙার কাজ শেষ হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানিয়েছেন, রাতের মধ্যেই সেটি পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হবে।

এটি কারা ভাঙছে, শুরুতে তা স্পষ্ট না হলেও পরে জানা যায়—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই ভাঙার দায়িত্ব নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সারা দেশের ৬৪টি জেলায় ‘জুলাই মনুমেন্ট’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ঢাকার জন্য নির্ধারিত হয়েছে শাহবাগ মোড়ের এই জায়গাটি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে এখানে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্দেশ্যে ত্রিকোণাকৃতির একটি ইলেকট্রিক বিলবোর্ড স্থাপন করেছিলেন। শুরুতে সেখানে বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিন বসানো হয়েছিল। তবে সেটি থেকে আসা বিকট শব্দ এবং অতিরিক্ত আলোতে আশপাশের মানুষের সমস্যা হচ্ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শাহবাগ জাদুঘর কর্তৃপক্ষও তখন স্ক্রিনটি সরানোর দাবি জানায়।

কিন্তু সেটি না সরানোয়, পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন নিজ উদ্যোগে স্ক্রিন খুলে নেয়। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন আদালতে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মামলা করেন। সেই মামলা এখনো চলমান। এরইমধ্যে ডিএসসিসির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের সময় রাজধানীর সব বিলবোর্ড উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই স্থাপনাটিও উচ্ছেদের আওতায় আনা হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে সেটি পুরোপুরি সরানো হয়নি। গত কয়েক বছর স্থাপনাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

অবশেষে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে শাহবাগ মোড়ে ত্রিকোণাকৃতির এই বিলবোর্ড স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা শুরু হয়। ডিএসসিসির অঞ্চল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় জানান, এই স্থাপনাটির কোনও অফিসিয়াল নাম ছিল না। এটি ছিল মূলত বিজ্ঞাপনী সংস্থার ত্রিকোণাকৃতির ইলেকট্রিক বিলবোর্ড, যা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ডিএসসিসির উপ-রাজস্ব কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, একসময় এই বিলবোর্ড থেকে নিয়মিত করপোরেশনে রাজস্ব জমা পড়ত। কিন্তু উচ্ছেদ ও মামলার পর থেকে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভাঙা হলো এই বিতর্কিত স্থাপনা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া জানিয়েছেন, শাহবাগের এই জায়গাতেই তৈরি হবে ঢাকার ‘জুলাই মনুমেন্ট’। এটি নির্মিত হলে শহরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের নতুন একটি নিদর্শন হিসেবে যোগ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT