হাসনাতের পর সার্জিসের অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসী তাণ্ডব, র‍্যাবের ডিএডি নিহত তারেক রহমান: জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদ-আহতদের জন্য নতুন বিভাগ হবে ২০২৬ হজের জন্য হজযাত্রীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু আলিফ হত্যা মামলা- চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, বিচার শুরু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল: উচ্চপর্যায় বৈঠকে অগ্রগতি ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত চাইছে আইসিসি, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য অনিশ্চিত মাগুরার চিত্রা নদী থেকে উদ্ধার মুঘল আমলের তরবারি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: লাইনচ্যুতি ও সংঘর্ষে নিহত ২১, আহত শতাধিক দীর্ঘ ২৬ বছর পর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ রিপোর্টার্স ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা জম্মু-কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে সাত ভারতীয় সেনা আহত

হাসনাতের পর সার্জিসের অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫
  • ২১৩ বার দেখা হয়েছে
অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সার্জিসের কড়া বার্তা, ছবি: সংগৃহীত
অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সার্জিসের কড়া বার্তা, ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্র নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহের ‘অপসাংবাদিকতা’ বিষয়ক ফেসবুক পোস্টের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আরেক ছাত্র নেতা সারজিস আলম গণমাধ্যমকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। কালবেলা, কালের কণ্ঠসহ অন্যান্য কিছু গণমাধ্যমের ‘ভণ্ডামি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ক্রিনশট (কালের কণ্ঠের একটি সংবাদের) শেয়ার করেছেন এবং ‘হলুদ সাংবাদিকদের’ বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সারজিস আলম তার পোস্টে সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “কালবেলা, কালের কন্ঠ কিংবা অন্য যে কোন মিডিয়া হাউজ, সাংবাদিকতার নামে আপনারা এই ভন্ডামি বন্ধ করেন।” তিনি একটি নির্দিষ্ট সংবাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন যেখানে একটি ছবি এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেখে মনে হতে পারে যে তিনি (সারজিস) কোথাও থেকে অবৈধ টাকা অর্জন করে তার বন্ধুর বাসায় রেখেছেন এবং সেখান থেকে সেই টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অথচ, তার মতে, সংবাদটি হওয়া উচিত ছিল—”সারজিসের বন্ধুর বাসা থেকে তিন বস্তা টাকা পাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা/গুজব।”

সারজিস তীব্র ভাষায় প্রশ্ন করেন, “কোথাকার কোন চোর, কিসের টাকা চুরি, যেসব সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নাই তাদের সাথে প্রথমে বন্ধুর ট্যাগ দেয়া, এরপরে ছবি এড করে দিয়ে সাংবাদিকতার নামে যে ছ্যাচরামি আপনারা করছেন এগুলো সাংবাদিকতার ন্যূনতম এথিক্সের পর্যায়ে পড়ে না।”

তিনি অভিযোগ করেন যে, এই ধরনের গণমাধ্যমগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “কমেন্টে থাকা আপনাদের নিউজের লিংক ১০% মানুষও পড়েনা। বাকি মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিংবা আমাদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আপনাদের এই নোংরামিগুলোই যথেষ্ট।”

সারজিস আলমের এই বার্তা হাসনাত আব্দুল্লাহর আগের পোস্টের ধারাবাহিকতা। হাসনাত তার পোস্টে দাবি করেছিলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সমর্থকরা দেশের কিছু কর্পোরেট গণমাধ্যমের মাধ্যমে অপসাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হলো নতুন সরকারকে বিতর্কিত করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা এবং ‘ফ্যাসিবাদ’ ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা। সারজিস আলমের পোস্টটি সেই অভিযোগকে আরও সুনির্দিষ্ট করে তুলেছে, যেখানে সরাসরি একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমের নাম এবং একটি নির্দিষ্ট সংবাদের স্ক্রিনশট ব্যবহার করে অপসাংবাদিকতার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, কিছু গণমাধ্যম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এবং দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার অংশ।

সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এই ধরনের সাংবাদিকতা চলতে থাকে, তাহলে তাদেরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “নাহলে আগামীতে আমাদেরও লেখা শুরু করতে হবে- ‘শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী আমলে হাজারের অধিক বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সন্তোষ শর্মার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে যা জানা গেল…’ কিংবা ‘সারাদেশে বসুন্ধরা গ্রুপের হাজার কোটি টাকার অবৈধ জমি দখল, খুন এবং ধর্ষণ সম্পর্কে যা জানা গেল…'”।

তিনি সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, নয়তো কতিপয় তথাকথিত সাংবাদিকের জন্য এই সম্মানজনক পেশায় থাকা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, পেশাদার ও আপসহীন সাংবাদিকদের সম্মানহানির মুখে পড়তে হবে। পরিশেষে তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেন, “আপনারা জনগণের ঊর্ধ্বে নন। আর সত্যের ঊর্ধ্বে তো ননই। জীবন থাকতে বাংলার মাটিতে ফ্যাসিবাদের কোন ধরনের পুনর্বাসনই আমরা হতে দিব না।”

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT