নোটিশ:
শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের চাহিদা বছরে ৩০৫ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের বিশাল ঘাটতি: প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বর থেকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরিকাঠামো, বৃদ্ধির অঙ্ক এখনো নির্ধারিত নয় যবিপ্রবির গবেষকের ন্যানো ইউরিয়া প্রযুক্তির পেটেন্ট অনুমোদন: মাঠপর্যায়ের ফল যাচাইয়ের তাগিদ ঢাকায় দুই দিনের সৌরবিদ্যুৎ প্রদর্শনী শুরু বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা দেখছে টয়োটা জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল: প্রতিশ্রুতির সঙ্গে চাই বাস্তবায়নের স্বচ্ছ হিসাব ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট

অবশেষে মুক্ত প্যালেস্টাইনপন্থী ছাত্রনেতা মাহমুদ খালিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫
  • ৩০২ বার দেখা হয়েছে
Campus Protests Mahmoud Khalil
মাহমুদ খালিল

যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং দেশজুড়ে প্যালেস্টাইনপন্থী ক্যাম্পাস আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাহমুদ খালিল শুক্রবার ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

মাহমুদ খালিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা, এক মার্কিন নাগরিকের স্বামী এবং এক মার্কিন-জন্ম ছেলে সন্তানের বাবা। গত মার্চ মাস থেকে তাকে আটক রাখা হয়েছিল এবং তার দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল।

মুক্তির পর লুইজিয়ানার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনায় তিন মাস সময় নেওয়া উচিৎ ছিল না। ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ভুল ব্যক্তিকে বেছে নিয়েছে। আসলে কারোই শুধু গণহত্যার প্রতিবাদের জন্য আটক হওয়া উচিৎ নয়।’’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এই রায়ের কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, ‘‘এটি আদালতের কিছু সদস্যের নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থার প্রমাণ, যা জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলছে।’’

মাহমুদের মুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে পারবেন না, শুধুমাত্র ‘স্বেচ্ছা নির্বাসন’ ছাড়া। এমনকি দেশের ভেতরেও তার যাতায়াতের ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে।

মাহমুদের স্ত্রী, মিশিগান-জন্ম ডেন্টিস্ট নূর আবদাল্লাহ বলেন, ‘‘আমাদের পরিবার অবশেষে একটু স্বস্তি নিতে পারছে। মাহমুদ এখন বাড়ি ফিরছে। তবে এই রায় ট্রাম্প প্রশাসন যে অন্যায় আমাদের ও আরও অনেক পরিবারকে করেছে, তার সামান্য প্রতিকারও নয়।’’ উল্লেখ্য, মাহমুদের আটক থাকার সময় তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়।

গত ৮ মার্চ ইমিগ্রেশন এজেন্টরা মাহমুদ খালিলকে গ্রেফতার করে। এরপর নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। তখন তিনি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন এবং গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন ক্যাম্পাস আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ১৯৫০-এর দশকের একটি পুরনো আইন ব্যবহার করে বিদেশিদের মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির জন্য হুমকি দেখিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চালায়। এমনকি মার্কো রুবিও নামে এক সিনেটর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিদেশিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় দাবি করেন।

এই সময় শত শত শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হয়, অনেকে মতামত প্রকাশ বা সাধারণ গ্রেফতারের ঘটনাতেও লক্ষ্যবস্তু হন। তবে এক বিচারক মাহমুদের আটকাদেশ অবৈধ ঘোষণা করে বলেন, শুধু রুবিওর অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি দাবি করে তাকে আটক বা ফেরত পাঠানো যাবে না।

মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ছিল তার স্থায়ী নাগরিকত্বের আবেদনে কিছু তথ্য ভুল ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘‘মাহমুদের মুক্তির আদেশ তার অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ শুধুমাত্র প্যালেস্টাইনের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের জন্য তার ওপর সরকারি নির্যাতন চলছে।’’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT