জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারি দপ্তরের অনেক জায়গায় পরিবর্তন এলেও সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোতে শেখ হাসিনা আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা এখনো বহাল আছেন। বিশেষত বিদেশি মিশনে নিযুক্ত কমার্শিয়াল, শ্রম, ইকোনমিক কাউন্সিলর ও মিনিস্টার পদে থাকা আওয়ামী সমর্থকরা দেশে ফেরেননি এবং আগের মতোই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী আওয়ামী সমর্থকদের অপসারণ হলেও সচিবালয়ে অন্তত ১৫ জন সচিব ও অতিরিক্ত সচিব এখনো পদে বহাল আছেন। তাদের অনেকে শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ, মুজিববর্ষ উদযাপনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির সাথে জড়িত ছিলেন এবং প্রভাবশালী উপদেষ্টাদের ‘প্রটেকশন’ পাচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পানিসম্পদ সচিব নাজমুল আহসান, অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সচিব নাজমা মোবারক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সচিব আবদুর রহমান খান, শ্রম সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব নাসরীন জাহান, স্বাস্থ্যসেবা সচিব মো. সাইদুর রহমান, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকারে কর্মরত মো. নিজাম উদ্দিন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমান ও পরিকল্পনা সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন।
এই কর্মকর্তারা প্রশাসনে এখনো হাসিনা সরকারের নীতি ও প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সচিবালয়ে এক ধরনের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে।