রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট (এনআইবিপিএস)-এ মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসায় যুক্তরাজ্যের নয় সদস্যের বিশেষায়িত জরুরি চিকিৎসক দল (ইউকে ইএমটি) গত তিন দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
এনআইবিপিএস-এর আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বাসসকে জানান, ‘ব্রিটিশ মেডিকেল টিমটি প্রতিটি মেডিকেল বোর্ড সভায় অংশ নিয়ে দগ্ধদের সঠিক চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ধারণে সহযোগিতা করেছে। এছাড়া তারা প্রতিদিন রোগীদের পরিদর্শন করছেন এবং স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন।’
নয় সদস্যের এই ব্রিটিশ মেডিকেল টিমে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ, নিবিড় পরিচর্যা চিকিৎসক, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ নার্স এবং পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। সবাই অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও ক্লিনিক্যাল পেশাদার।
আগামী তিন সপ্তাহ তারা এনআইবিপিএস-এ অবস্থান করে দগ্ধ শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পরিষেবা প্রদান করবেন।
গত রোববার মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধ আরও দুই রোগীকে এনআইবিপিএস থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ২৪ জন দগ্ধ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা সংকটজনক, তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন এবং একজন লাইফ সাপোর্টে আছেন।
ডা. শাওন আরও জানান, মোট ২৪ জনের মধ্যে ১৫ জন মেয়ে ও ৮ জন ছেলে, মোট ২২ জন শিশু এবং ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা রয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজন ইনহেলেশন ইনজুরিতে ভুগছেন এবং পাঁচজনের দগ্ধ অংশ শরীরের ৩০ শতাংশেরও বেশি।
এখন পর্যন্ত এনআইবিপিএসে দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য ২০০টিরও বেশি ছোট-বড় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। দগ্ধ অবস্থায় ১৮ জন চিকিৎসাধীন, আর একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (ঢামেক) মারা গেছেন।
উল্লেখ্য, ২১ জুলাই দুপুর ১টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে। এতে ৩৩ জন নিহত হন বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এ দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও নিহত হন।