রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে সোহাগকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে যুবদলের পদপ্রার্থী নেতাকর্মীরা। নিহত মো. সোহাগ (৪৩) কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে এবং তিনি মিটফোর্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারির ব্যবসা করতেন।
ঘটনার তিন দিন পর, ১১ জুলাই শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনার ন্যায়বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনেকেই সরব হন। এ প্রেক্ষিতে ইসলামী ভাবধারায় লেখালেখির জন্য পরিচিত মাহদী ফয়সাল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিসাস সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি ইসলামী শারীয়াহ্ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সাবাস বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য মাহদী ফয়সালের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
“আপাতত আমি একটা কিসাস চাই। একটা কিসাস। কিসাস হলো সমপরিমান বদলা। হত্যার বদলে হত্যা।
সূরা বাকারায় আল্লাহ্ বলেছেন,
ওয়া লাকুম ফিল কিসাসি হায়াতুন।
কিসাসের মধ্যেই হায়াত রয়েছে।
আশ্চর্য না? কিসাসে আবার কিভাবে হায়াত থাকে?
হ্যাঁ, জনসম্মুখে একটা কিসাস দেন। সব শান্ত হয়ে যাবে। সব উগ্রতা বন্ধ হয়ে যাবে।
আল্লাহ্ পাক হুদাই কোনোকিছুকে আমাদের উপর ফরজ করেন নাই।
আল্লাহ্ পাক ফরজ করছেন মানে, এটা ছাড়া বান্দার মুক্তি নাই।
কিসাস ফরজ বিধান।
আল্লাহ্ রোজার ব্যাপারে যেভাবে বলেছেন,
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ — কুতিবা আলাইকুমুস সিয়াম।
ঠিক সেভাবে বলেছেন,
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ — কুতিবা আলাইকুমুল কিসাস।
মিটফোর্ডের সামনে নৃশংস মার্ডারের ভিডিওটা একবার দেখে আরেকবার সাহস করিনি।
এতএত প্রত্যক্ষদর্শী, সাক্ষী। ৩ দিনের মধ্যে বিচার হওয়া সম্ভব।
আমি একটা কিসাস চাই।
বাংলার কাফের, মুশরিক, নাস্তিক মুরতাদরা পর্যন্ত দেখবে শরয়ী বিধানের উপকারীতা।”
সামাজিক মাধ্যমে মাহদী ফয়সালের পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই কিসাস এর মত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে একমত পোষণ করেছেন। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতির কারণে এই ঘটনায় দ্রুত বিচার সম্ভব বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।