টিটিপি সংশ্লিষ্টতার ধুয়ো তুলে ইসলামপন্থী যুবকদের মামলা-গ্রেফতার হয়রানি: জঙ্গী নাটকের নতুন অধ্যায় - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
ড্রোন হামলার আশঙ্কা, বন্ধ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইরানের হামলায় তেল আবিবে আতঙ্ক: মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ডে গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় রনিকে মেরে লাশ পুড়িয়ে দেয় ছাব্বির কুবিতে প্রথমবার জাতীয় বিতর্ক উৎসব, অংশ নেবে ৫৬টি দল আত্রাইয়ে স্ত্রী–সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যা নিজ অফিসে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল কুবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক ইবিতে শিক্ষিকা খুন, কর্মচারীর আত্মহননের চেষ্টা ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক ভূমি অফিস পরিদর্শন, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

টিটিপি সংশ্লিষ্টতার ধুয়ো তুলে ইসলামপন্থী যুবকদের মামলা-গ্রেফতার হয়রানি: জঙ্গী নাটকের নতুন অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭৭ বার দেখা হয়েছে
জঙ্গী নাটকের বলি তিন যুবক

বাংলাদেশে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সাভার ও নারায়ণগঞ্জ থেকে দুজন নিরীহ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। এ ঘটনায় তৈরি করা হয়েছে একাধিক মিথ্যা মামলা। তদন্তের নামে হয়রানি চলছে আরও ছয় যুবককে নিয়ে, যাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় এটিইউ জানায়, সাভার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ফয়সাল নামে এক যুবককে। অথচ এলাকাবাসী ও তার পরিচিতজনরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সম্মানিত ব্যবসায়ী এবং ধার্মিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। এমনকি মামলার প্রধান আসামি বানানো হলেও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারের সময় তাৎক্ষণিক প্রমাণ ছিল না। তাই সাভার থানা পুলিশও প্রথমে তাকে ছেড়ে দেয়। পরে এটিইউ তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য নতুন করে মামলা করে।

মামলায় আরও অভিযুক্ত করা হয় আল ইমরান ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার, রেজাউল করিম আবরার, আসিফ আদনান, জাকারিয়া মাসুদ ও সানাফ হাসানকে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, এরা সবাই নিজেদের মতো পড়াশোনা ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত, ধর্মীয় অনুশাসন মানেন ঠিকই, তবে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা কখনোই ছিল না। মামলার বাদী এটিইউ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানও গণমাধ্যমে এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।

এরপর আবার নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় শামিন মাহফুজ নামের এক ব্যক্তিকে। তাকেও মিথ্যা মামলার অংশ বানিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অথচ মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও নন তিনি। পুলিশের তদন্তে কোনো যথাযথ তথ্য ছাড়াই তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই মামলায় পাকিস্তানে জিহাদে নিহত চার যুবকের নাম তুলে, দেশে ২৫ যুবক নাশকতা করতে যাচ্ছে বলে গল্প সাজানো হয়েছে। অথচ তাদের নাম, পরিচয়, কর্মকাণ্ড — কিছুই প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘটনা গোটা এলাকায় ক্ষোভ, আতঙ্ক ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ‘জঙ্গি’ বানানোর এই কায়দা এখন পুরনো। যেখানে ইসলামি শরিয়াহ মানা বা ধার্মিক হওয়াও আজ ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দিতে এবং ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ সাফল্যের নামে দেশে নিরীহ ধর্মপ্রাণ ও তরুণদের টার্গেট করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT