কাশ্মীরে হামলার প্রেক্ষিতে ভারতের গৃহীত পাঁচ সিদ্ধান্তের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতের সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আপাতত স্থগিত থাকবে। একইসঙ্গে ওয়াগাহ সীমান্ত তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তান ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ‘বিনা ভিসা প্রকল্প’ বাতিল করে সব ভিসা স্থগিত করেছে।
ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের কূটনীতিক সংখ্যা ৩০ জনে সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ভারতীয় প্রতিরক্ষা, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পাকিস্তান ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত তারা প্রত্যাখ্যান করছে। পানি সরানো বা প্রবাহ বন্ধের যে কোনো পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধের উসকানি’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তার জবাব দেওয়া হবে জাতীয় শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে।
এছাড়া পাকিস্তান তার আকাশসীমা ভারতীয় মালিকানাধীন বা পরিচালিত সব বিমান সংস্থার জন্য বন্ধ করে দিয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্কও স্থগিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলোর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল ইতোমধ্যে এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দুই দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের ভ্রমণ, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েও দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির এমন উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।