লাগামহীন লুটপাটে বিলুপ্তির পথে সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
পরিকল্পিত যাকাত বণ্টনে ১০–১৫ বছরে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা বরখাস্ত ড্রোন হামলার আশঙ্কা, বন্ধ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইরানের হামলায় তেল আবিবে আতঙ্ক: মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ডে গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় রনিকে মেরে লাশ পুড়িয়ে দেয় ছাব্বির কুবিতে প্রথমবার জাতীয় বিতর্ক উৎসব, অংশ নেবে ৫৬টি দল আত্রাইয়ে স্ত্রী–সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যা নিজ অফিসে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল কুবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক ইবিতে শিক্ষিকা খুন, কর্মচারীর আত্মহননের চেষ্টা

লাগামহীন লুটপাটে বিলুপ্তির পথে সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩২২ বার দেখা হয়েছে
লাগামহীন লুটপাটে বিলুপ্তির পথে সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র
সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে পাথর লুট

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে চলছে প্রকাশ্যে পাথর লুটপাট। গেল বছরের ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই লুটে প্রায় পাথরশূন্য হয়ে পড়েছে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাটি। পরিবেশকর্মী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র এক বছরে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে, যার বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকারও বেশি। পাথরের সঙ্গে বালুও লুট করা হচ্ছে। অথচ কেন্দ্রের চারপাশে রয়েছে বিজিবির চারটি ক্যাম্প ও পোস্ট।

সরেজমিন দেখা গেছে, ধলাই নদীর উৎসমুখ থেকে শত শত নৌকা দিয়ে অবিরাম পাথর উত্তোলন চলছে। মূল স্পটের বড় বড় পাথর নেই, কোথাও কোথাও জেগে উঠেছে ধু-ধু বালুচর।

প্রশাসনের উদাসীনতা ও দুর্বল নজরদারির সুযোগে পাথরখেকোরা নির্বিঘ্নে তাদের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তার প্রভাব থাকে অল্প সময়ের জন্য। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, সাদাপাথরকে কেন্দ্র করে ১৫টি মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ৭০ জন। তবে স্থায়ী সমাধানে বড় ধরনের অভিযানের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সাদাপাথরের ইতিহাস বলছে, ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বৃষ্টির স্রোতে এই পাথর ধলাই নদী হয়ে বাংলাদেশে আসে। ১৯৯০ সালে ব্যাপক পাথর জমলেও লুটপাটে তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ২৭ বছর পর, ২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢলে আবারও প্রায় ২০ ফুট উঁচু পাথরের স্তর জমে, যা সংরক্ষণ করে পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের লুটপাটে ৮ বছরে গড়ে ওঠা সেই সৌন্দর্য এখন বিলীন।

পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তাদের প্রশ্ন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদ যারা রক্ষা করতে পারে না, তারা নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে?”

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT