
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় দফতর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে দায়িত্ব পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতারা; পাশাপাশি একাধিক টেকনোক্র্যাটকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসন, অর্থনীতি, অবকাঠামো, পররাষ্ট্র ও সামাজিক খাত—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত নেতৃত্ব গঠনের বার্তা দিয়েছে নতুন এই মন্ত্রিসভা।
পূর্ণমন্ত্রী পর্যায়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন সালাউদ্দিন আহমদ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খলিলুর রহমানকে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুল আওয়াল মিন্টু। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
ভূমি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মিজানুর রহমান মিনুকে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন নিতাই রায় চৌধুরী। বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র-পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আফরোজা খানম রিতাকে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে রয়েছেন মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আসাদুল হাবিব দুলু।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাকারিয়া তাহেরকে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন দীপেন দেওয়ান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন ফকির মাহবুব আনাম।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শেখ রবিউল আলমকে।
প্রতিমন্ত্রী পর্যায়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র-পাট প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন মো. শরীফুল আলম।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ভূমি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হয়েছেন মো. আমিনুল হক। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজীব আহসান। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন মো. আব্দুল বারী। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন মীর শাহে আলম।
অর্থ, পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন মো. জুনায়েদ আব্দুল রহিম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ইশরাক হোসেন। মহিলা ও শিশু ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ফারজানা শারমিন।
পরিবেশ, ধর্ম ও আইন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন মো. নুরুল হক নুর। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন এম ইকবাল হোসেইন। স্বাস্থ্য, ডাক-টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন এম এ মুহিত। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ববি হাজ্জাজ। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
নতুন মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রশাসনিক দক্ষতা ও নীতিগত সমন্বয় জোরদারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি, অবকাঠামো ও পররাষ্ট্র খাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে এই সমন্বিত মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।