হাম মোকাবিলায় শুধু মৃত্যুর হিসাব নয়, চাই প্রতিরোধের জবাবদিহি

- আপডেট সময় রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
- ৬ বার দেখা হয়েছে


হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সাম্প্রতিক হিসাব আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাফল্য শুধু হাসপাতালের শয্যা কিংবা প্রতিদিনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মাপা যায় না। শিশুদের কাছে সময়মতো টিকা পৌঁছেছে কি না, রোগ শনাক্তের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং পরিবারগুলো সঠিক তথ্য পেয়েছে কি না—এসবই প্রকৃত পরীক্ষার বিষয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩১ অক্টোবরের তথ্যে সন্দেহভাজন ও পরীক্ষায় নিশ্চিত সংক্রমণের পৃথক সংখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। সব সন্দেহভাজন রোগকে পরীক্ষায় নিশ্চিত বলে উপস্থাপন করলে যেমন তথ্য বিভ্রান্তিকর হয়, তেমনি সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যুকে উপেক্ষা করলেও সংকটের বাস্তবতা আড়াল হয়। নিয়মিত তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি পরীক্ষার সক্ষমতা ও রোগ নজরদারির পদ্ধতি সম্পর্কে জনসাধারণকে জানাতে হবে।
টিকাদান কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা। শহরের বস্তি, প্রত্যন্ত চর, অভিবাসী পরিবার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য স্থানীয়ভাবে হালনাগাদ তালিকা, স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ের সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন। কেবল কেন্দ্রভিত্তিক প্রচারণা যথেষ্ট নয়।
হামের লক্ষণ দেখা দিলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, কখন হাসপাতালে যেতে হবে এবং কোন সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত নির্দেশনা সহজ ভাষায় প্রচার করা উচিত। গুজব বা টিকা নিয়ে অমূলক আতঙ্ক মোকাবিলার পথ হলো তথ্যের স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক।
প্রতিটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাছে জবাবদিহির প্রশ্ন। তাই পরবর্তী পরিসংখ্যান প্রকাশের পাশাপাশি জেলা অনুযায়ী টিকাদানের ঘাটতি, প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ এবং বাস্তব অগ্রগতিও নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন। শিশুস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ছবি: প্রতীকী।






Leave a Reply